অপরিণত বা অল্প বয়সে বলিরেখা ও বলিরেখা ত্বকের যত্ন

wrinkle skin care at immature or young age

আজকাল তরুণ বা তরুণীদের মধ্যে অনেকরই ত্বকে একটি সমস্যা খুব বেশি দেখা দিচ্ছে। তা হলো অল্প বা অপরিণত  বয়সেই চামড়ায় ভাজ বা বলিরেখা পরে যাওয়া। যার কারণে অপরিণত বা অল্প  বয়সেই চেহারায় বয়স্ক ভাব চলে আসে। ত্বকে বয়সের ছাপ দেখা দেওয়া বলতে বোঝায় মুখের ত্বক কুঁচকে যাওয়া, ঝুলে যাওয়া, ঠোঁট ও চোখের পাশে বলিরেখা দেখা দেওয়া প্রভৃতি। এই সকল সমস্যা অল্প বয়সে দেখা দেওয়ার ভিন্ন ভিন্ন কারণের মাঝে প্রধান কারণ হলো ত্বকের সঠিক যত্নের অভাব ও নিত্যদিনের কিছু অভ্যাস! মুখের ত্বকের নিয়মিত ও সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারলে কখনোই এই সমস্যাটি দেখা দেবে না। কিন্তু সঠিক পরিচর্যা, যত্নের অভাব এবং সচেতনতার অভাবে মুখের ত্বকে বয়সের ছাপ চলে আসবে খুব দ্রুত।

Jordana in Bangladesh

 

একইসাথে রয়েছে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস, যা অজান্তেই ক্ষতি করে ফেলছে আমাদের মুখের ত্বকের। এই সকল সৌন্দর্যচর্চার অভ্যাসগুলো মুখের ত্বকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পরিবর্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয় খুব দ্রুত। 

 

জেনে নিন তাহলে কোন অভ্যাসগুলো / কারনে  অপরিণত বা অল্প  বয়সেই ত্বকের ক্ষতি করছে এবং বয়সের ছাপ ফেলে দিচ্ছে আপনার ত্বকে-

১)সানস্ক্রিম ব্যবহার না করা

ত্বকে বয়সের ছাপ দ্রুত পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সানস্ক্রিম (best sunscream bd)  ব্যবহার না করা। কারন  ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর কড়া রোদের তাপ অর্থাৎ সূর্যের রশ্মি এবং চুলার আগুনের ফলে ত্বকের কোলাজেন ভেঙে যায়। এমনটা ঘটার কারণ হলো রোদের প্রখর আলো যাতে থাকে ইউভি (UV- Ultraviolet) রশ্মি। এই ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি ত্বকের উপরের অংশ তো বটেই, ভেতরের অংশেও ক্ষতিকর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে দেয়। যার ফলে অল্প বয়স থেকেই মুখের ত্বকে বলিরেখা দেখা দেওয়া শুরু করে।

২)ফ্যাটবিহীন খাবার খাওয়া 

আজকাল ডায়েট করার জন্য অনেকেই একেবারেই ফ্যাট ছাড়া খাবার খেয়ে থাকে। এতে শরীরের নূন্যতম ফ্যাটের চাহিদাও পূরণ হয় না। স্নেহ বা ফ্যাটের একটি প্রধান কাজ হল দেহের ত্বককে আদ্র বা ময়েশ্চারাইজড রাখা। বাইরে থেকে এই লোশন বা তেল মেখে এটা করা যায় না। শুষ্ক ত্বকে খুব দ্রুত ভাজ পড়ে যায়। আর এই জন্য যারা ফ্যাট একেবারেই খান না তাদের অল্প বয়সেই চামড়ায় ভাজ পড়ে যায়।

৩)পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব

আমাদের দেহের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী রাত ১০ টা থেকে দেহের মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু আপনি রাত ৩ টা পর্যন্ত না ঘুমালে এসব মেরামত হরমোনগুলো ভাল কাজ করে না এবং নষ্ট ত্বকও ঠিক হয় না। এভাবে বছরের পর বছর চলতে থাকলে অল্প বয়সেই ত্বকে ভাজ পড়ে যায় খুব সহজেই।

৪)মানসিক চাপ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কম বেশি সবাই সমস্যার সম্মুখীন হই। কিন্তু  অতিরিক্ত স্ট্রেস ও টেনশনের একাধিক কুপ্রভাব রয়েছে। এর ফলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, মুড সুইং, ডিপ্রেশন বা ঘুমের অভাবের মতো নানা উপসর্গ দেখা দেয় যা একসঙ্গে অপরিণত বা অল্প  বয়সেই ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে ও ত্বক বয়স্ক দেখায়।

৫)অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান ও সোডাজাতীয় পানীয়

অ্যালকোহল, সিগারেট ও সোডা ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়৷ তার সাথে এর কেমিক্যাল শরীরের ভিটামিন সি কমিয়ে দেয়। যা সূর্যের রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করার হার কমায়। তাই সূর্যের আলোতে ক্ষতি হয় আরো বেশি। এছাড়াও ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যেস থাকলে বা প্রতিদিন ঠান্ডা পানীয় খেলে আপনার ত্বক ক্রমশ শুকনো হয়ে যায়  এবং অবশ্যম্ভাবীভাবেই দেখা দেয় অপরিণত বা অল্প বয়সে বলিরেখা আর বয়সের দাগছোপ।

৬)সঠিকভাবে মুখের ত্বক পরিষ্কার না করায়

মুখের ত্বক নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজনীয় হলেও, পরিষ্কার করার পদ্ধতি সঠিক হওয়া প্রয়োজন। না হলে ত্বকের জন্য সেটা ভালো ফলাফলের পরিবর্তে খারাপ প্রভাব ফেলে দিতে পারে। ত্বকের ধরন বুঝে ও নিয়ম মেনে ত্বক পরিষ্কার করার ব্যাপারটি অনেকই বোঝেন না। ভালোভাবে ম্যাসাজ করার প্রক্রিয়া না জানার কারনে ত্বকে ভাজ পড়ে যায় এবং অপরিণত বা অল্প বয়সে বলিরেখা পড়ে যায়।

৭)অতিরিক্ত গরম অথবা ঠাণ্ডা পানি মুখে ব্যবহার 

মুখ ধোয়ার জন্য খুব বেশী গরম পানি ব্যবহার করলে ত্বক অনেক বেশী শুষ্ক হয়ে ওঠে এবং ত্বকে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া শুরু হয়। অপরদিকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারে মুখের ত্বকের রোমকূপ অনেক বড় হয়ে যায়। যার ফলে ত্বকে ময়লা তুলনামূলক ভাবে বেশী প্রবেশ করে। যে কারণে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম পানি ব্যবহার সর্বদা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। মুখ ধোয়ার জন্য সবচাইতে উত্তম হলো কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা।

Maybelline in Bangladesh

৮)চোখের ত্বকের যত্ন না নেওয়া

শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক বেশ নমনীয়। এই মুখের ত্বকের মাঝে চোখের নিচের ত্বক সবচাইতে বেশী পাতলা ও নমনীয়। চোখের ত্বকের সঠিক পরিচর্যা ও যত্নের অভাবে খুব দ্রুত চোখের নিচের চামড়া কুঁচকে যায়। যার ফলে সকলের চোখের চারপাশের অংশে বলিরেখা দেখা দেওয়া শুরু করে। এতে করে  অপরিণত বা অল্প বয়সেই ছাপ খুব বেশী বোঝা যায়।

৯)ব্রণ খোঁচানোর অভ্যাস

মুখের ত্বকে ব্রণ দেখা দিলে অনেকেই সেটা হাতের আঙ্গুল ও নখ দিয়ে খোঁচাখুঁচি করে থাকি। যার ফলে ত্বকে দাগ বসে যায় ও ত্বকে ক্ষত সৃষ্টি হয়। ত্বকের এই সমস্যাতেও বয়সের ছাপ ফেলে দেবার জন্য দায়ী অনেকাংশে।

১০)অনেক বেশী মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার

প্রাকৃতিকভাবেই সকলের ত্বকে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও কোমলতা থাকে। তারপরেও নিজেকে আরো কিছুটা গোছানো ও সুন্দর দেখানোর জন্য মেকআপ সামগ্রী সকলেই কম বেশী ব্যবহার করে থাকেন। পরিমাণের চাইতে অনেক বেশী ও ঘনঘন মেকআপ সামগ্রী ব্যবহার কখনই ত্বকের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। কারণ সকল ধরনের মেকআপ সামগ্রী তৈরিতেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল পদার্থ। যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করে থাকে। এছাড়াও ধৈর্য ধরে মেকআপ করার ব্যাপারে ক্লান্তি কাজ না করলেও মেকআপ তোলার ব্যাপারে কেন জানি সকলের খুব আলসেমি কাজ করে থাকে। যে কারণে অনেকেই রাতে মেকআপ না তুলেই ঘুমিয়ে পরেন অথবা অনেক লম্বা সময়ের জন্য মেকআপ মুখে রেখে দেন। মেকআপ মুখের ত্বকের উপরে একটি আস্তরণ ফেলে দেয়। যার ফলে ত্বক তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায় না এবং রোমকূপ বন্ধ হয়ে থাকে। যা থেকে ত্বকে ব্রণসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দেওয়া শুরু করে। এই সকল ত্বকের সমস্যা ত্বকের মাঝে দ্রুত বয়সের ছাপ ফেলে দেয়।

১১)প্রয়োজনের তুলনায় বেশী এক্সফলিয়েট করা

নিয়মিত ভিত্তিতে মুখের ত্বক সহ শরীরের অন্যান্য অংশেও এক্সফলিয়েট করা প্রয়োজন ত্বকের মরা চামড়া তুলে ফেলার জন্য। কারণ, নিয়মিতভাবে এক্সফলিয়েট করা না হলে ত্বকে মরা চামড়ার আস্তরণ পড়ে যায়, যার ফলে ত্বকে ব্রণসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা শুরু করে। এক্সফলিয়েট করা প্রয়োজন হলেও সেটা কখনোই বেশী করা ত্বকের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। বরঞ্চ, প্রয়োজনের তুলনায় বেশী এক্সফলিয়েট করা হলে ত্বক তার স্বাভাবিক কোমলতা ও নমনীয়তা হারিয়ে ফেলে। যার ফলে ত্বকে বয়স্ক ভাব দেখা দেওয়া শুরু করে।

 

★★এসকল কারনগুলোর জন্য সাধারনত অপরিণত বা অল্প বয়সে ত্বকে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়ে থাকে।

বয়সের ছাপ বা বলিরেখা কারনে ত্বকের ভাঁজ দূর করার টিপস-

নিয়মিত ত্বকের যত্ন এবং জীবন থেকে কিছু বদ অভ্যেস বাদ দিলেই দীর্ঘদিন ত্বক তরুণ রাখা অবশ্যই সম্ভব৷

দেখা যাক কীভাবে পাওয়া যাবে চিরনবীন ত্বক: 

১)মুখ ধোওয়ার অভ্যাস করা

বাইরের ধুলোবালি আর বায়ুদূষণ ত্বকে স্বাভাবিকভাবে তৈরি তেলের সংস্পর্শে এসে মুখ চিটচিটে করে দেয়। এতে ত্বকের কোষের প্রচণ্ড ক্ষতি হয়, ত্বকে অল্প বয়সেই ছাপ পড়তে শুরু করে। কাজেই দিনে অন্তত দু’বার জল আর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে।

২)সানস্ক্রিন ব্যবহার

আমাদের মুখে বয়সের ছাপ বা বলিরেখার জন্য প্রধানত দায়ী সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি। তাই যতটা সম্ভব সূর্যের রশ্মি থেকে দূরে থাকতে হবে।রোদের ক্ষতিকর প্রভাবের হাত থেকে ত্বককে বাঁচাতে হলে অবশ্যই ভালো সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করতে হবে। সানস্ক্রিন শুধু ত্বককে কালো করা বা বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে না, এটি ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতেও সাহায্য করে। রোদে বেরোনোর আগে তো বটেই, দিনের বেলা বাড়িতে থাকলেও আগুনের কাছে যাওয়ার আগে ভালো করে সানস্ক্রিন মাখতে ভুলবেন না৷ সানস্ক্রিন এর মধ্যে ভালো-

                 ১. Nivea Sun Protect And Moisture 

                 ২. Nivea Moisturizing After Sun Lotion

                 ৩. Nivea Sun Immediate Protection

৩) প্রচুর পানি খান

শরীরে পর্যাপ্ত পানি  না পেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের যৌবন ধরে রাখতে দিনে অন্তত দিনে দু’ লিটার অথবা প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে। এতে ত্বক প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

৪) ধূমপান, মদ্যপান ও সোডাজাতীয় পানীয় ত্যাগ

নিয়মিত ধূমপান আর মদ্যপানে অন্যান্য শারীরিক ক্ষতি তো হয়ই, প্রথম প্রভাবটা পড়ে ত্বকের উপর৷ ধূমপান, মদ্যপান ও সোডাজাতীয় পানীয় পান করা যাবেনা। কারন ধূমপান, মদ্যপান ও সোডাজাতীয় পানীয় ত্বকে বলিরেখা সৃষ্টির জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাই এগুলো সেবনের আগে অবশ্যই বলিরেখার কথা মাথায় রাখতে হবে। এই বস্তুুগুলো জীবন থেকে বাদ দিতে পারলে বয়সের থাবাও সরিয়ে দিতে পারবেন এক ঝটকায়৷

৫) পর্যাপ্ত ঘুম

ঘুমানোর সময় পিঠের উপর ভর করে ঘুমানো উচিত। অনেকেই পেটের উপর ভর দিয়ে ঘুমায়। এতে চেহারার উপর প্রেশার সৃষ্টি হয়, যা চামড়াকে ঝুলিয়ে দেয়। তাই আমাদের সঠিক ভাবে দৈনন্দিন কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। এতে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার আশঙ্কা থাকবে কম।

৬) প্রাকৃতিক তেলের জাদু

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ অ্যাপ্রিকট অয়েল বা ভিটামিন ই-তে ভরপুর সুইট আমন্ড অয়েল ( Ilana or Skin Cafe) নিয়মিত মুখে মাসাজ করলে ত্বক থাকবে সজীব ও টানটান৷ এছাড়া ত্বকের বয়সের দাগছোপ, সূক্ষ্ম বলিরেখা দূর করতে অসম্ভব ভালো কাজ করে আভোকাডো তেল (Ilana or Skin Cafe) ৷ একাধিক ভিটামিনে ভরপুর অাভোকাডো তেল ত্বকের কোলাজেন তৈরির স্বাভাবিক ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বক রাখে সতেজ ও উজ্জ্বল৷ আবার ঘুমানোর আগে সপ্তাহে ২-৩ বার অলিভ অয়েল (Skin Cafe or Ilana) কয়েক ফোঁটা হাতে নিয়ে ৫ মিনিট মুখে ম্যাসাজ করুন। তারপর ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে ফেলুন।

৭) স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া

ত্বকের যৌবনের গোপন কথা লুকিয়ে রয়েছে  স্বাস্থ্যকর খাবারে৷  সামুদ্রিক মাছ এবং ওমেগা ৩ আছে এমন খাদ্য বেশি করে খান। কারন ওমেগা ৩ তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। আর শাকসবজি ফলমূল তো আছেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন আর অ্যামাইনো অ্যাসিড ত্বকের স্বাভাবিক কোলাজেন উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

৮) চকোলেটের মাধ্যমে ত্বকের জাদু

যৌবন ধরে রাখার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে চকোলেটে৷ বলিরেখার আঁকিবুকি, অকালবয়সের কামড় আটকাতে তাই প্রতিদিন ছোট একটুকরো ডার্ক চকোলেট খেতে ভুলবেন না। ফ্যাট হলেও পরিমানমতো খেলে ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৯) অ্যান্টি এজিং ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার

সকালে এবং রাতে মুখ ধোয়ার পরে মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এটি আপনার ত্বকের ড্যামেজকে নিয়ন্ত্রণ করে। আপনার মুখে ভাঁজ পরা থেকে ত্বককে রক্ষা করবে।। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে, ত্বকে বলিরেখা দেখা দেয়,বয়সের আঁকিবুকি। বয়সের থাবা দূরে রাখতে তাই সবসময় ত্বক আর্দ্র রাখার দিকে নজর দিতেই হবে৷ নিয়মিত অ্যান্টি এজিং ময়েশ্চারাইজ়ারের ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বক কোমল ও মসৃণ রাখে। 

১০)নিয়মিত ব্যায়াম

শারীরিক পরিশ্রম না করলে বয়সের থাবা বেশি তাড়াতাড়ি গ্রাস করে আমাদের৷ তাই নিয়মিত ব্যায়াম, জগিং ও ফ্রি হ্যান্ড করা উচিত। এতে স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে তেমনি ত্বকও স্বাস্থ্যকর থাকে এব্ং বয়সের ছাপ লুকায়।

১১)রাতে আই ক্রিম ব্যবহার

শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক বেশ নমনীয়। এই মুখের ত্বকের মাঝে চোখের নিচের ত্বক সবচাইতে বেশী পাতলা ও নমনীয়। চোখের চারপাশের ত্বক সবচেয়ে কোমল ও সংবেদনশীল৷ বয়সের ছাপ তাই সবার আগে চোখের চারপাশেই পড়ে৷ চোখের নিচে বয়সের আঁকিবুকি ছাপ এড়াতে তাই রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে ভালো আন্ডার আই ক্রিম লাগিয়ে নিন৷ এতে চোখের চারপাশ দেখায় তরুণ, সতেজ।

১২) দৈনন্দিন ত্বক পরিচর্যা

১. প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে ভালোভাবে ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।

২. ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। মুখে ফেসওয়াশ লাগানোর সময় আপনার চোখের পাশের জায়গাগুলো বাদ দিয়ে এরপর ভালোভাবে মুখে কয়েকবার ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।

৩. টোনার ব্যাবহার করতে হবে। টোনার আপনার মুখে ময়লা এবং তেল গোড়া থেকে তুলে দিতে সাহায্য করবে যা সাবান অথবা ফেসওয়াশ সব সময় পারে না। ত্বক শুষ্ক হলে টোনার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। 

৪. প্রতিদিন অবশ্যই ত্বককে মশ্চারাইজ করতে হবে 

৫. সপ্তাহে একদিন স্ক্রাব ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একদিন আপনার ত্বকে স্ক্রাব ব্যবহার করুন। স্ক্রাব ব্যবহারের সময় ত্বককে জোরে ঘষবেন না। স্ক্রাবারের জন্য দুই চামচ মধুর সঙ্গে এক চামচ চিনি মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহার করুন। স্ক্রাব মুখে দিয়ে ৭ থেকে ১০ মিনিট মুখে ভালোভাবে ম্যাসাজ করে কুসুম কুসুম গরম জলে মুখ ধুয়ে নিন।

৬. বাইরে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যাবহার করতে হবে।

নিয়মিত পরিচর্যায় আপনার ত্বক থাকবে তরুণ, সতেজ ও জেল্লাদার৷

Milani in Bangladesh

১৩) বলিরেখা দূর করতে ঘরোয়া পদ্ধতি:

. ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে আবার ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার ত্বক প্রাণবন্ত দেখাবে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা মুখে থাকলে তা অনেকটাই ডাকা পরবে।

. লেবুর রস মুখে লাগাতে পারেন। লেবু রসের অ্যাসিডিটি আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে এবং বলিরেখা কমিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।

. পাকা কলাও ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ২ বার পাকা কলা চটকে মুখে গলায় ঘাড়ে লাগান। ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন আপনার ত্বক প্রাণবন্ত দেখাবে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা মুখে থাকলে তা অনেকটাই ডাকা পরবে।

. অ্যালোভেরাও একটি উপকারী উপাদান যা ত্বকের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা জেল ত্বকের বলিরেখার উপরে লাগিয়ে রাখুন। অ্যালোভেরা জেল প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন যদি কোন সমস্যা না করে আপনার ত্বকে।

. ২ টেবিল চামচ কমলার রস, ১ টেবিল চামচ মধু, চার টেবিল চামচ বেসন দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই রকম মিশ্রণ বানিয়ে সপ্তাহে ৪-৫ বার মুখে ব্যবহার করুন। এটি আপনার ত্বক থেকে বলিরেখার চিহ্ন দূর করতে সাহায্য করবে।

.আমাদের ত্বকের জন্য হলুদ খুবই উপকারী। হলুদের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কোলাজেন উৎপন্ন করে ত্বককে টানটান রাখে। এ ছাড়া ফ্রি র্যাডিক্যালসের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করাও ভার্জিন নারকেল তেলের অন্যতম কাজ। এক চিমটে হলুদ ও কয়েক ফোঁটা নারকেল তেল (Ilana or Skin cafe) মিশিয়ে সেই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক নরম তো হবেই। সঙ্গে বলিরেখাও দূর হবে।

.মুলতানি মাটি, ডিমের সাদা অংশ আর অ্যালোভেরা জেল দিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখ আর গলায় ব্যবহার করতে পারি এতে ত্বক টানটান রাখতে খুব কার্যকর। 

★★★তবে প্যাক মেখে চুপচাপ শুয়ে অথবা বসে থাকবেন। ভুরু কোঁচকানো, হাসা সব বারণ – তাতে কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে বলিরেখা পড়তে পারে!

১৪)প্রয়োজন  ছাড়া মুখের মধ্যে যতটা সম্ভব কম হাত লাগানো।মুখে হাত বেশি দিলে দাগ পড়ে, রূক্ষ হয়ে পড়ে,এছাড়াও নানা রকম সমস্যা হয়ে থাকে।তাই যখন তখন মুখে হাত দেয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে।

সারাদিনের ব্যস্ততার পর রাতে এবং ছুটির দিনগুলোতে একটু সময় বের করে ত্বকের যত্ন নিলে,বদঅভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে, অযথা দুশ্চিন্তা না করলেে দেখবেন,ত্বকে বয়সের ছাপ, বলিরেখা দূর উল্টা বয়স ১০ বছর কমে যাবে।

প্রয়োজনীয় উপকরনগুলো আপনারা চাইলে অনলাইনে  carnesia.com  থেকে নিতে পারেন। আবার  শোরুমের জন্য ধানমন্ডির জেনেটিক প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স  শপ থেকেও কিনতে পারেন!

                

লেখকঃ জাহান জিনাত ( বিউটি এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *