7 ways to get white heads free skin

ত্বক আমাদের এমন একটা অংশ যেটার অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় প্রতিনিয়ত। প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যার কারণে প্রতিদিন চিন্তিত থাকতে হয় কিভাবে আমরা সমস্যাগুলো দূর করবো। 

ভিন্ন ভিন্ন ত্বকে সমস্যাগুলো ও ভিন্ন ভিন্ন হয়। 

কারো পিম্পল সমস্যা থাকলে,কারো থাকে ব্রণের সমস্যা, কিংবা কারো থাকে ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা আবার অনেকেই থাকে হোয়াইট হেডসের সমস্যা।

 

সবগুলো সমস্যার সাথে আমরা পরিচিত থাকলেও হোয়াইট হেডস সম্পর্কে আমাদের অনেকর ধারণা নেই বললেই চলে। কারণ হোয়াইট হেডস অনেকটাই ব্রণের মত তাই আমরা হোয়াইট হেডসকেও ব্রণ ভেবে ভুল করি। 

আজ তাহলে জানা যাক হোয়াইট হেডস কি এবং কেন হয় সাথে আপনাদের এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়ও জানিয়ে দিব আজ। 

NYX bangladesh

★★হোয়াইট হেডস কি??

হোয়াইট হেডস এক ধরনের অ্যাকনে, যা স্কিন এ ক্লগড হেয়ার ফলিকসের জন্য হয়। হোয়াইট হেডস বয়ঃসন্ধিকালের সময় থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক সবারই এই সমস্যা হতে পারে। মুখের পাশাপাশি ঘাড়ে, গলায়, পিঠে এবং হাতেও হোয়াইট হেডস হতে পারে। হোয়াইট হেডসকে আমরা ব্রণ বা একনি মনে করি কিন্তু একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন ব্রণ এবং হোয়াইট হেডসের মধ্যে একটু পার্থক্য আছে। সাধারণত ব্রণের আকার এবং হোয়াইট হেডসের আকার একই হয় না।

 

★★কেন হয় হোয়াইট হেডস 

 

ত্বকের মরা কোষ, ব্যাকটেরিয়া এবং ধুলো-ময়লা আমাদের ত্বকের ওপরের হেয়ার ফলিকসে জমে যায় এবং তার ফলে এক ধরনের সোলেন গ্রোথ হয়। আর এখানে যদি অতিরিক্ত তেল এবং ব্যাকটেরিয়া জমা হয় তখনই দেখা যায় হোয়াইট হেডস।

 

হোয়াইট হেডস  কখনো টিপে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। ত্বকে স্থায়ী দাগ বা ইনফেকশন হতে পারে।

 

 

★★কিভাবে হোয়াইট হেডস থেকে মুক্তি পাবেন এর উপায়

হোয়াইট হেডস কোনো রোগ না। অনেকেই মনে করেন এটা থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ না। কিন্তু নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা করলে খুব সহজেই আপনি হোয়াইট হেডস থেকে মুক্তি পাবেন। ত্বকের পরিচর্যায় কয়েকটি কাজ আপনাকে অবশ্যই করতে হবে। 

১) ত্বক পরিষ্কার করা : হোয়াটস হেডস মূলত ত্বক অপরিষ্কার থাকার কারণে হয় তাই মুখ পরিষ্কার রাখা আবশ্যক।  বার বার মুখে পানি দেওয়া মানেই কিন্তু ত্বক পরিষ্কার করা না। 

ত্বক পরিষ্কার করতে অবশ্যই আপনার ত্বক উপযোগী ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া আবশ্যক।  

প্রতিবার ত্বক পরিষ্কার করার পর ভালো একটি টোনার ব্যবহার করে নিন। 

২)সিরাম ব্যবহার : ত্বক পরিষ্কার করে টোনার ব্যবহারের পর অবশ্যই একটি ভালো ব্র্যান্ডের সিরাম ব্যবহার করুন। 

সিরাম আপনার ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।  

সিরাম ব্যবহারের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। 

অনেকেই মনে করেন ত্বকে সিরাম ব্যবহার করলে কিংবা ত্বক তৈলাক্ত হলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা লাগে কিন্তু এই ধারনাটি  সম্পূর্ণ ভুল। 

ময়েশ্চারাইজার আপনার ত্বককে শুষ্ক হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে আর সিরাম আপনার ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বকের আর্দ্রতা এবং আপনার ত্বকের ন্যাচরাল তেলের ব্যালেন্স ঠিক রাখবে। 

তাই সিরামের পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে আপনার সিরামের কার্যকারিতা ঠিক রাখবে। 

৩) স্ক্রাবিং : ত্বকের হোয়াইট হেডস সমস্যা দূর করতে অবশ্যই স্ক্রাব করতে হবে। স্ক্রাব এর ছোট পার্টিকেলস ত্বকের হোয়াইট হেডস দূর করে দেয়।  তাই সপ্তাহে ৩বার স্ক্রাব ব্যবহার করুন। 

স্ক্রাবের জন্য আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রোডাক্টস ব্যবহার করতে পারেন। Neutrogena daily scrub seriesSt.ives blackhead charcoal scrubClean & clear morning energy scrub এই কয়েকটি ব্র্যান্ডের স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন এগুলোর পার্টিকেলসগুলো লাইট হওয়ার কারণে আপনার ত্বক কে খুব বেশী শুষ্ক করবে না। 

 

৪) মেকাপ রিমুভ  : মেকাপ কম বেশী আমরা সবাই করি কিন্তু মেকাপ রিমুভের ক্ষেত্রে আমরা বেশীরভাগ সময় অমনোযোগী থাকি এতে করে আমাদের ত্বকের সমস্যা বেড়ে যায়।  

তাই রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মেকাপ রিমুভ করে নিবেন। 

তবে খেয়াল রাখবেন মেকাপ ডিরেক্টলি ফেসওয়াশ দিয়ে রিমুভ না করার। অবশ্যই একটি মেকাপ রিমুভার কিংবা ক্লিন্জার ব্যবহার করুন। মেকাপ রিমুভার কিংবা ক্লিন্জার ত্বক কে ডিপলি ক্লিন করতে সাহায্য করে। এরপর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। 

Garnier Micellar water ব্যবহার করতে পারেন। এটি সব ধরনের স্কিনে ভালো কার্যকরী ভূমিকা রাখে।  

 

৫) খাদ্যোভাস : আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য আসে আমাদের ভেতর থেকে। তাই বাহিরের ত্বকের পরিচর্যার পাশাপাশি ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন নেওয়া  ও গুরুত্বপূর্ণ।  তাই প্রতিদিনের খাদ্যোভাস ঠিক রাখতে হবে। যদি চান সেক্ষেত্রে Detox ড্রিংকস খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। পাশাপাশি শাক সবজি,সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। 

এতে আপনার ত্বক স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকবে। 

৬) মাস্ক : হোয়াইট হেডস-এর কথা মাথায় রেখে আপনার ফেইস মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে আপনি যেকোনো ক্লে অথবা চারকোল মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ক্লে অথবা চারকোল মাস্কগুলো হোয়াইট হেডসপ্রোন স্কিনের জন্য খুব ভালো কাজে দেয়।

Bodyshop Himalayan Charcoal glow mask  ব্যবহার করতে পারেন দ্রুত ফলাফলের জন্য।

৭) ঘরোয়া পদ্ধতি : হোয়াইট হেডস দূর করার জন্য ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন। 

নিচে কয়েকটি ঘরোয়া মাস্ক দেওয়া হলো। 

কনফ্লাওয়ার মাস্ক : হোয়াইট হেডস দূর করতে কর্নফ্লাওয়ার পানিতে মেশান। এর সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ভিনেগার মিলিয়ে হোয়াইট হেডসে লাগান। আধঘণ্টা পর কুসুম গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে তুলে ফেলুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

Milani in Bangladesh

গোলাপজল মাস্ক :  চন্দনের গুঁড়া ও গোলাপজল একসঙ্গে মিলিয়ে পেস্ট বানিয়ে ব্যবহারেও উপকার পাবেন। ২০-৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। 

গোলাপজল ব্যবহারের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখবেন যেন অর্গানিক হয়। আর নয়তো আশানুরূপ ফলাফল পাবেন না। আমার কাছে Skin cafe rose water টা বেস্ট মনে হয়। এটি ১০০% অর্গানিক হওয়াতে নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। 

অ্যলোভেরা মাস্ক: অ্যালোভেরার কার্যকরী উপাদান ব্রণ সমস্যা দূর করার পাশাপাশি হোয়াইট হেডস সমস্যাও দূর করে। এটি ত্বক কে মসৃণ করে তোলে। পরিমাণ মত অ্যালোভেরা জেলের সাথে পরিমাণ মত গোলাপজল মিশিয়ে ব্যবহার করুন এটি ত্বকে উজ্জ্বলতা বাড়াবে। 

আমার কাছে Nature Republic Aloe gel এবং Skin cafe aloe gel ২টা প্রোডাক্টস অসাধারণ লেগেছে। চাইলে আপনিও ট্রাই করতে পারেন আপনার ত্বকের পরিচর্যায়। 

নিয়মিত পরিচর্যার সাহায্যে হোয়াইট হেডস সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে আপনার ত্বক। তাই আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কিছু সময় রাখুন আপনার ত্বকের যত্ন নিতে আর পেয়ে যান সুন্দর, উজ্জ্বল ত্বক।

 

লেখকঃ ইফতিহা জান্নাত ( বিউটি এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *