রূপচর্চায় ৭টি ফুলের ব্যবহার, ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপায়!!

The use of tea flowers in beauty care, a natural way to care for the skin!

ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ বলতে গেলে খুবই কম আছে। প্রাচীন কাল থেকে রূপচর্চায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে ফুল। ফুলে থাকা নিউট্রিয়েন্ট চামড়ার এইজিং প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। যার কারণে উপটান সহ বিভিন্ন বাজারজাত রূপচর্চার পণ্যে ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ফুল। 

তবে আপনি যদি ঘরে বসেই প্যাক তৈরী করে নিতে পারেন তাহলে সেটি বাজারজাত পণ্যের চেয়ে খুবই ভালো কার্যকরী হবে। 

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কিভাবে আপনি ফুল দিয়ে রূপচর্চা করতে পারেন-

★ জবা ফুলঃ  পরিমানমত জবা ফুলের পাপড়ি নিয়ে পেস্ট করে নিন। এর সঙ্গে ১ চা চামচ চালের গুঁড়া এবং Essential oil (ভিটামিন ই, Sweet orange oil etc) আর অল্প পানি দিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন।

এরপর মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০মিনিট অপেক্ষা করুন।

মুখে জমে থাকা ময়লা, দুষণ আর অতিরিক্ত তেল থেকে মুক্তি পেতে এই প্যাক ব্যবহার করুন। 

★গাঁদা ফুলঃ  ত্বকের যত্নে গাঁদা ফুলের ব্যবহার অপরিহার্য।  গাঁদা ফুলের প্যাক ব্যবহার করে ব্রন

 মুক্তি পাওয়া সম্ভব। 

১) ব্রণ দূর করতেঃ  পরিমানমত গাঁদা ফুল থেতলিয়ে নিয়ে ব্রণের উপর দিয়ে রাখুন। 

গাঁদাফুল খুবই কার্যকর একটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, যা ব্রণের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

২) Sunburn / Suntan দূরীকরণেঃ আপনার পরিমানমত কয়েকটা গাঁদাফুলের পাঁপড়ি বেটে নিয়ে এতে ২ চা চামচ কমলার রস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখসহ রোদে পোড়া অংশগুলোতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এতে রোদে পোড়া দাগ দূর হবার পাশাপাশি ত্বকের রঙের অসামঞ্জস্যতাও দূর হবে। 

৩) ত্বকের কালো দাগ দূরীকরণেঃ  ত্বকের কালো ছোপ ছোপ দাগ দূর করতে গাঁদাফুলের পাঁপড়ি বাটা, চন্দন পাউডার ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে  ধুয়ে ফেলুন। এতে দাগ দূর হবে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে।

★গোলাপ ফুল : ত্বকের পরিচর্যায় গোলাপের নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। 

১) উজ্জ্বলতা বাড়াতে:  গোলাপের কয়েকটি পাঁপড়ি কাঁচা দুধে ভিজিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর এই পাঁপড়িগুলো বেটে নিন এবং এর সাথে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি পুরো মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বককে করে তুলবে কোমল ও মসৃণ। 

২) বলিরেখা দূরীকরণে : কয়েকটি গোলাপের পাঁপড়ি নিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে নিন। এর সাথে ত্বক তৈলাক্ত হলে লেবুর রস, শুষ্ক হলে কমলার রস এবং মিশ্র হলে শসার রস মিশিয়ে নিন। এরপর এ মিশ্রণটি তুলার বলের ওপর নিয়ে প্রতিদিন ত্বকে লাগান। বলিরেখা তো দূর হবেই, ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে।

★পদ্ম ফুল :  পদ্মফুলের পাঁপড়ি পেস্ট করে রস ছেঁকে নিন। ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে এই রসে তুলো ভিজিয়ে ত্বকে লাগান। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। 

পদ্ম ফুলের রস প্রাকৃতিক  ক্লিনজার, টোনার ও ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। 

★শাপলা ফুল : শাপলাফুল ও তিল পেস্ট করে সাথে  পরিমানমত নিমের তেল মেশান। ত্বকে লাগিয়ে ১০মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর বরফঠাণ্ডা পানিতে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। 

এটি আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমিয়ে এনে ব্রণ সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে।

যদি আপনার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত কিংবা তৈলাক্ত হলে এই প্যাকটি আপনার জন্য। 

★রজনীগন্ধা ফুল:  পূর্ণ স্ফুটিত রজনীগন্ধা ফুলের পাঁপড়ি পেস্ট করে নিয়ে সাথে সামান্য মাখন ও মধু মিশিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন।

শুষ্ক, রুক্ষ ত্বকে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে  রজনীগন্ধা অপরিহার্য।  

★ বেলী ফুল: বেলীফুল পেস্ট করে নিয়ে সাথে অ্যালোভেরার জেল ও মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। 

ত্বক টানটান ও মসৃণ হয়ে উঠবে। নিয়মিত ব্যবহারে বলিরেখা দূর হবে।

Jordana in Bangladesh

★★সতর্কতা

১) ফুলের পাঁপড়ি ব্যবহারের আগে ভালোভাবে পরিস্কার করে নিন। 

২) ফুলের পাঁপড়ি বা রস সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করবেন না। কারণ ফুলের অম্লতা ভিন্ন ভিন্ন হয়  যেটাকে আমরা pH বলে থাকি। যদি কোনো ফুলের pH আমাদের সহনীয়তার বেশী হয় সেক্ষেত্রে আমাদের ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

তাই অবশ্যই অন্যকোনো উপকরণের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করবেন। 

৩) ফুলের তৈরী প্যাক সবসময় টাটকা অবস্থায় ব্যবহার করুন। বেশী দিন রেখে দিলে এতে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম নিতে পারে যা আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। 

৪) অনেকের অনেক ফুলে এলার্জির সমস্যা থাকে। তাই ফুলের প্যাক ব্যবহার করার আগে হাতে কোনো অংশে লাগিয়ে যাচাই  করে নিন আপনার এলার্জি প্রবলেম হচ্ছে কি না। 

কিছু সতর্কতা মেনে চলেই ফুলের তৈরী প্যাক দিয়ে পেয়ে যেতে পারেন ফুলের মত মসৃণ এবং উজ্জ্বল ত্বক। 

 

লেখকঃ ইফতিহা জান্নাত ( বিউটি এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *