Moisturizer for dry skin in Bangladesh

আমরা অনেকেই ত্বকের শুষ্কতা নিয়ে  ভোগে থাকি। যেকোন ত্বকের চেয়ে শুষ্ক ত্বকের  যত্ন করাটা  কিছুটা কঠিন। কারণ এটি খুব তাড়াতাড়ি ময়েশ্চার হারিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। ড্রাই স্কিনের সাথে অনেক ধরনের সমস্যাও হয়ে থাকে। তবে কিছু নিয়ম মেনে আপনিও আপনার শুষ্ক ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে ড্রাই স্কিন কেয়ার রুটিন সাজিয়ে নিতে পারেন। আপনি ধারাবাহিকভাবে কিছু রুটিন মেনে চললে ড্রাই স্কিনের যে কোন ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন। তাহলে  কিভাবে আপনার ড্রাই স্কিনের ময়েশ্চার ধরে রেখে স্কিনকে আরো কোমল ও উজ্জ্বল করে তুলবেন তা দেখা যাক-শুষ্ক ত্বকের জন্য দরকার বাড়তি যত্ন। 

 

 

ড্রাই স্কিন কেয়ার নিয়ে কিছু টিপস:

১) দৈনিক  কম পক্ষে ৭-৮ গ্লাস পানি পান করা।বেশি বেশি ফলের জুস খাওয়া। এছাড়া ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খাওয়া।

২) প্রতিদিন বাইরে থেকে ফিরে আসার পরে উষ্ণ পানি দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে ফেলুন এবং মুখের সব মেকআপ তুলে ফেলুন যে কোন মেকআপ রিমুভার বা তেল ইউজ করে।

৩) বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল না করা। কারণ গরম পানি আপনার শুষ্ক ত্বক আরো শুষ্ক করে তুলে।তাই চেষ্টা করতে হবে নরমাল বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করার।

৪) প্রতিবার ত্বক পরিষ্কার করার পরে কখনোই ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম এবং লোশন লাগাতে ভুলা যাবে না কারণ এতে ত্বক আরো শুষ্ক হয়ে পড়ে।

৫) সব সময় আরামদায়ক পোশাক পরার চেষ্টা করতে হবে। এতে আপনার ত্বক ভালো থাকবে। সুতি, খাদি পোশাক  ড্রাই স্কিনের জন্য বেস্ট চয়েজ।

৬) দৈনিক কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টার  ভালোভাবে  ঘুমাতে  হবে।

৭) সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কারণ এতে আপনার ত্বকের ট্যানিং বেড়ে গিয়ে ত্বক আরো ড্রাই হয়ে যাবে।যদি একান্ত যেতে হয় সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।

৮) প্রতিদিনকার ব্যবহৃত লোশনের সাথে অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। গোসলের আগে অলিভ অয়েল হাত-পা সহ সারা শরীরের ম্যাসাজ করে তারপর গোসল করে নিন। গোসল শেষে হালকা কোন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

উপরে উল্লিখিত ড্রাই স্কিন কেয়ারগুলো মেনে চললে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার ত্বকের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন। তাই আজ থেকে আর শুষ্ক ত্বক নিয়ে চিন্তিত না হয়ে আপনার ত্বকের যত্ন নিন এবং ত্বকের ময়েশ্চারাইজিং ধরে রাখা নিশ্চিত করুন।

 

আমরা চাইলে ঘরোয়া উপকরন দিয়ে স্কিনকে ময়েশ্চারাইজ করতে পারি-

১। শুষ্ক ত্বকের জন্য মধু এবং ডিমের কুসুম খুব ভাল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। সমপরিমাণের মধু এবং ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিন। মুখ ও ঘাড়ে ভাল করে লাগিয়ে নিন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

২। অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে নিন। অ্যালোভেরা জেলের সাথে দুই টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এই প্যাকটি মুখ এবং ঘাড়ে ব্যবহার করুন। ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দূর করে থাকে। আপনারা চাইলে ঝালেমা ছাড়া Aloe Pura Organic Aloe Vera Gel ব্যাবহার করতে পারেন

৩। দুই টেবিল চামচ মধু এবং দুই টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নিন। এটি মুখে লাগান। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে থাকে।

৪। অর্ধেকটা কলা এবং চার টেবিল চামচ টকদই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এবার প্যাকটি ত্বকে ভাল করে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলা এবং টকদইয়ের মিশ্রণ ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে। এর সাথে ত্বকের উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি করে দেয়।

আপনার ত্বকের জন্য সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়ার পদ্ধতি-

 

১) মৌসুম অনুযায়ী 

এটা কিন্তু সত্যি যে কোন প্রসাধনী যত ভালোই হোক, মৌসুমভেদে সেটার ব্যবহারে ভিন্নতা আসে। আর তাই মৌসুমের দিকে খেয়াল রেখেই ময়েশ্চারাইজার কিনতে হবে। গরমকালে হালকা আর শীতকালে একটু ভারী কোন ময়েশ্চারাইজার নিতে হবে।

 

৩. ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অনুযায়ী

বিভিন্ন রকম ভিটামিন আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের কোষগুলোকে নানারকমভাবে প্রভাবিত করে। এক্ষেত্রে ভিটামিন এ ত্বকের কোঁচকানো ভাব, বলিরেখা ইত্যাদি দূর করে। এছাড়াও সিনথেটিক হাউড্রোক্সি অ্যাসিড ত্বকের নতুন কোষ বৃদ্ধি, ভিটামিন সি কোলাজেন বৃদ্ধিসহ নানারকম ছোটখাটো সাহায্য করে দেয় আপনার ত্বকের। আর কমিয়ে দেয় ত্বকের বয়স। ত্বককে  সুস্থ ও সতেজ থাকতে সাহায্য করে আর তাই ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় ভিটামিনের তালিকাটাও দেখে নেওয়াটা জরুরী।

 

৪. নিজের ত্বক সম্পর্কে  জানা

ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে প্রথমেই নিজের ত্বকের ধরণ সম্পর্কে জানতে হবে।ত্বকের  ওপর ভিত্তি করে বাছাই করুন কোন ময়েশ্চারাইজারটি আপনার জন্য। সাধারন ত্বকের জন্যে পানি প্রধান ও আঠালো নয় এমন ময়েশ্চারাইজার।  আর শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে ভারী তেল প্রধান ও খনিজ তেল প্রধান ময়েশ্চারাইজার।

nior Bangladesh

৫. চারটি ধাপ মেনে 

যেকোন ময়েশ্চারাইজার বাছাই করার ক্ষেত্রে মোট চারটি ব্যাপারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ক. গন্ধ

খ. অনুভূতি

গ. প্রতিক্রিয়া

ঘ. মূল্য

প্রথমেই গন্ধ নেই এমন কোন ময়েশ্চারাইজার পছন্দের তালিকায় রাখতে হবে।ভালো অনুভূতি সম্পূর্ন এবং  কোনরকম জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা প্রতিক্রিয়া না হয় এমন ময়েশ্চারাইজার । আর দামের ব্যাপারটা তো অবশ্যই দেখতে  হবে।

এছাড়াও ভালো মানের অনেক প্রকার ময়েশ্চারাইজার ক্রিমও পাওয়া যায়-

১। Garnier Pure Active Sensitive Soothing Moisturiser

শুষ্ক ত্বকের জন্য খুব ভালো কাজ করে।এতে কোনো হার্শ কেমিক্যাল, আর্টিফিশিয়াল কালার বা স্মেল নেই।এতে কোন প্রকার ক্ষতিকারক উপাদান নেই।

২। L’Oreal Triple Active Multi Protection Day Moisturiser- Dry And Sensitive Skin

ত্বককে সুরক্ষা করে  প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।সিরামাইড এবং ভিটামিন B5 এর সাথে সমৃদ্ধ এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বককে আরও বেশি উজ্জ্বল দেখায়। অবিলম্বে আপনার ত্বক তীব্রভাবে hydrated এবং নরম এবং আরামদায়ক মনে হয়। L’Oréal প্যারিস ডার্মো-বিশেষজ্ঞ ট্রিপল সক্রিয় দিন মাল্টি-সুরক্ষা ময়শ্চারাইজার আপনার ত্বক আরো উজ্জ্বল দেখায়।

৪। Palmer’s Daily Facial Lotion Spf15:

এই ময়েশ্চারাইজারটি সাধারনত সব স্কিনেরর জন্য প্রযোজ্য। ড্রাই স্কিনেও বেশ উপাকারী।

★★ ড্রাই স্কিনের পরিচর্যায় এসকল অথেনটিক পন্য পেয়ে যাবেন  carnesia.com  website থেকে অথবা এবং শোরুমের জন্য ধানমন্ডির জেনেটিক প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স থেকেও নিতে পারেন।

 

লেখকঃ জাহান জিনাত ( বিউটি এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *