What is a foundation?

মেকাপ শব্দটা শুনলেই তার বিপরীতে যে শব্দটি আমাদের মাথায় আসে সেটা হলো ফাউন্ডেশন। 

মেকাপ কতটা ফ্ল-লেস হবে নির্ভর করে আপনার ফাউন্ডেশনটা কেমন? আপনার শেডের সাথে মিলেছে কি না এবং আপনার ফাউন্ডেশন টা সঠিকভাবে ব্ল্যান্ড করেছেন কি না। 

নিজের অজান্তেই ভুল পণ্য ব্যবহার করেন। ভুল মেকাপ নির্বাচন আপনার পুরো সাজটাই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই শুষ্ক, তৈলাক্ত যেকোনো ধরনের ত্বকের জন্যই সঠিক ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা জরুরি। সবধরনের ত্বকের জন্যই আলাদা আলাদা ফাউন্ডেশন পাওয়া যায়।

★★ফাউন্ডেশন কেন ব্যবহার করবেন?  

মেকাপ মানেই ফ্ল-লেস লুক।যেখানে মুখের কোনো পিগমেন্টেশন দেখা যাবে না, দাগ দেখা যাবে না কিংবা কোনো স্মাইল লাইন দেখা যাবে না। আর এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে ফাউন্ডেশন। 

আপনি লাইট,মিডিয়াম কিংবা ফুল যেকোনো কভারেজের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন আপনার পছন্দ মতো।

★★কিভাবে ফাউন্ডেশন শেড সিলেক্ট করবেন?

ফাউন্ডেশন নিতে হলে আপনাকে কয়েকটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন কোন শেড টা আপনার জন্য উপযোগী। 

★ত্বকের ধরণ : ফাউন্ডেশন নিতে হলেই যে জিনিস সর্ব প্রথম খেয়াল রাখতে হবে সেটা হলো আপনার ত্বকের ধরণ। 

ত্বকের ধরন অনুযায়ী ৩ ক্যাটগরীতে ফাউন্ডেশন কে ভাগ করা যায়। 

Wet N Wild Photofocus Foundation Golden Beige

১) শুষ্ক ত্বক : ত্বকের আদ্রতার অভাবে ত্বক শুষ্ক হতে শুরু করে। আর শুষ্ক ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো হোয়াইটড- হেডস।  যদি লক্ষ করেন আপনার স্কিনে হোয়াইট-হেডসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং আপনার মুখের পুরো অংশ যদি dull থাকে তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনার ত্বক শুষ্ক। 

সেক্ষেত্রে আপনাকে oil based অথবা Matte foundation for dry skin ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে এতে আপনার স্কিন ময়েশ্চারাইজ থাকবে সাথে ফাউন্ডেশন ছোপ ছোপ হয়ে থাকবে না। 

২) তৈলাক্ত ত্বক: আপনার স্কিন তৈলাক্ত নাকি বুঝা খুবই সহজ। যদি আপনার পুরো মুখ গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরিত হয় তাহলে ত্বক তৈলাক্ত হয়। আর এটা বুঝার সহজ উপায় হলো যদি আপনার মুখ সব সময় তৈলাক্ত ভাব থাকে এন্ড 

একনি-ব্রণের সমস্যা থাকে তাহলে। 

এক্ষেত্রে আপনাকে Oil free Matte ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে। 

৩) মিশ্র বা কম্বিনেশন ত্বক: আপনার স্কিনকম্বিনেশন কি না বুঝতে আপনার টি-জোনের দিকে খেয়াল করতে হবে।যদি টি-জোন তৈলাক্ত এবং মুখের বাকি অংশ শুষ্ক থাকে,তাহলে আপনার কম্বিনেশন স্কিন। আবার যদি টি-জোন শুষ্ক এবং মুখের বাকী অংশ তৈলাক্ত হয় তাহলে সেটিও কিন্তু কম্বিনেশন স্কিন। 

এক্ষেত্রে আপনি কম্বিনেশন স্কিনের ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে হবে। তবে সেটা Oil free  / oil base ব্যবহার করবে আপনার ত্বকের উপর।  যদি আপনার ব্রণ, ঘাম বেশী হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে  oil free ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন৷ নাহলে oil based ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে পারেন। 

তবে কম্বিনেশন স্কিনের জন্য সবচেয়ে ভাল হয় পাউডার ফাউন্ডেশন৷  এক্ষেত্রে আপনি আপনার শুষ্ক অংশে কম প্রোডাক্ট আর তৈলাক্ত অংশে পরিমান মতো ব্যবহার করলেই মেকাপ বেস ফ্ল-লেস হয়। 

★ ফাউন্ডেশনের উপকরণ দেখে নিন: ফাউন্ডেশন  কেনার আগে অবশ্যই ফাউন্ডেশনের উপকরণ দেখে নিতে হবে। 

আপনার ত্বকে যদি ব্রণ থাকে তাহলে Acne fighting foundation , Salicylic acid  যুক্ত ফাউন্ডেশন বাছাই করে নিন। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক হয় তাহলে সিরামযুক্ত ফাউন্ডেশন বেছে নিতে পারেন, এটি আপনার ত্বক কে ময়েশ্চারাইজ করবে।আপনি যদি মেকাপের সময় Sunscreen  লোশন ব্যবহার করতে পছন্দ না করেন অথবা ব্যবহার করতে না চান তাহলে Spf 15 যুক্ত ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন, এতে মেকাপের সময় আর Skincafe Sunscreen লোশন ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

★ ফাউন্ডেশনের কভারেজ :  আপনি কি ধরনের মেকাপ করতে চান এটার উপর নির্ভর করে আপনি কেমন কভারেজের ফাউন্ডেশন নিবেন। 

যদি আপনি হালকা বেস পছন্দ করেন তাহলে হালকা কভারেজের ফাউন্ডেশন নিন।আর যদি ভারী বেস পছন্দ করেন তাহলে ফুল কভারেজের ফাউন্ডেশন নিবেন। 

আর এয়ারব্রাশের সাহায্য মেকাপ করলে আপনাকে অবশ্যই মিডিয়াম কভারেজের ফাউন্ডেশন নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ২টা লেয়ার দিয়ে নিতে পারেন প্রয়োজন মত। 

 

★ আন্ডারটোন: ফাউন্ডেশন সিলেকশনে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনাকে অবশ্যই সেই ফাউন্ডেশন টাই নিতে হবে যেটা আপনার স্কিন আন্ডারটোনের সাথে মিলবে। আমরা যখন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করি তখন প্রায়ই দেখা যায়, ফাউন্ডেশনটি লাগানোর পরই দেখতে কেমন গ্রে কালার লাগছে । আবার অনেক সময় অতিরিক্ত ইয়েলো / অরেঞ্জ কালারের মতো লাগে । এর কারণ হচ্ছে ভুল আন্ডারটোনের ফাউন্ডেশন । আপনার স্কিন ওয়ার্ম আন্ডারটোন হলে কুল টোনের ফাউন্ডেশন ব্যবহারে আপনাকে গ্রে দেখতে লাগবে । তাই সঠিক ফাউন্ডেশন নির্বাচনে আন্ডারটোন জানা খুবই জরুরী ।

 আন্ডারটোনের উপর ভিত্তি করে ফাউন্ডেশনকে ৩টা ভাগে ভাগ করা যায়। 

Milani in Bangladesh

১) ওয়ার্ম আন্ডারটোন :  আপনার হাতের কব্জির উল্টোদিকে খেয়াল করুন । সেই দিকটাতে সবারই শিরা/ধমনী খুব ভালোভাবে বোঝা যায় ।আপনার শিরার রঙ এর দিকে খেয়াল করুন। আপনার শিরার রঙ যদি সবুজ হয়, তাহলে আপনার আন্ডারটোন ওয়ার্ম।

ফাউন্ডেশন কেনার সময় ফাউন্ডেশনের কালারে খেয়াল করে দেখুন, তাতে যদি যদি হালকা ইয়েলো/ গোল্ডেন/ অরেঞ্জ আভা দেখতে পান, তবে সেটিই ওয়ার্ম টোনের ফাউন্ডেশন, যা আপনার জন্যে সঠিক।

Maybelline Fit Me Matte + Poreless Foundation- Natural Beige 220 in Bangladesh

২) কুল আন্ডারটোন : আপনার শিরার রঙ যদি হয় নীল/বেগুনী, তাহলে আপনার আন্ডারটোন কুল।

আপনি যদি কুল আন্ডারটোনের হন, তবে ফাউন্ডেশনের কালার খেয়াল করুন । যদি তাতে হালকা পিংক/ রেড আভা দেখতে পান। তবে সেটি কুল টোনের ফাউন্ডেশন । যা আপনার জন্যে সঠিক।

৩) নিউট্রাল আন্ডারটোন :  আর যদি আপনার শিরার রঙে সবুজ/নীল/বেগুনী  কালারগুলোর একটিও বোঝা না যায়, তবে আপনার আন্ডারটোন নিউট্রাল ।

আপনি নিউট্রাল আন্ডারটোনের হোন, ফাউন্ডেশনের টোন আপনার জন্যে কিছুই ম্যাটার করবে না। আপনি যেটা ইচ্ছা সেটাই ব্যবহার করতে পারেন । সবই আপনাকে মোটামুটি স্যুট করবে । তবে, অনেক ব্রান্ডেরই নিউট্রাল আন্ডারটোনের ফাউন্ডেশন আছে।সেগুলোও কিনতে পারেন।

★ফাউন্ডেশন শেড: সবর্শেষ যেটা লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা হলো আপনার শেড।

শেড হলো আপনার স্কিনের আসল রঙ, আর আন্ডারটোন হলো আপনার আসল রঙের নিচে লুকিয়ে থাকা হালকা শ্যাডো/আভা । অনেকেই ফাউন্ডেশন কেনার সময় এই দুটো বিষয়ে কনফিউজড হয়ে যান। পারফেক্ট মেকাপ লুকের জন্য আপনার আন্ডারটোন বুঝা যতটুকু গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটুকুই গুরুত্বপূর্ণ নিজের স্কিন শেড বুঝতে পারা। 

বাহিরের দেশে নামী দামী সব ব্র্যান্ড টেষ্টার ফ্যাসিলিটিস দিচ্ছে যা বাংলাদেশেও চলে এসেছে Carnesia ‘র হাত ধরে। 

তাই নিজের শেড অনুযায়ী ফাউন্ডেশন নিতে টেষ্টার থেকে আপনার আন্ডারটোনের ফাউন্ডেশন অল্প নিয়ে মুখে একপাশে টেষ্ট করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি বুঝতে পারবেন কোন শেডটি আপনার ত্বকের রং এর সাথে মিলেছে৷ 

★টিপস 

ফাউন্ডেশন শেড কারেকশন  :  অনেক সময় আমরা বুঝতে না পেরে ভুল শেডের কিংবা ভুল আন্ডারটোনের ফাউন্ডেশন নিয়ে ফেলি৷ সেক্ষেত্রে আপনার ফাউন্ডেশনের টোন এবং শেড ঠিক করতে ফাউন্ডেশন মিক্সার কিংবা কন্সিলার ব্যবহার করে নিতে পারেন। 

১) ওয়ার্ম আন্ডারটোন: যদি আপনার আন্ডারটোন ইয়েলো হয় এবং আপনার নেওয়া ফাউন্ডেশন কুল আন্ডারটোনের কিংবা আপনার শেডের চেয়ে ডার্ক, সেক্ষেত্রে আপনি ইয়েলো ফিক্সার দিয়ে আন্ডারটোন এবং শেড ঠিক করে নিতে পারেন। কিংবা ইয়েলো আন্ডার টোনের কন্সিলার মিক্সড করতে পারেন যেটা আপনার স্কিনে শেডের হবে কিংবা ১/২ শেড লাইট হবে।  

২)কুল আন্ডারটোন: যদি আপনার আন্ডারটোন কুল হয় কিন্তু আপনার ফাউন্ডেশন টোন ইয়েলো হয় এবং ডার্ক হয়, সেক্ষেত্রে আপনি হোয়াইট ফিক্সার / ব্লু  ফিক্সার  ব্যবহার করতে পারেন। 

কিংবা কুল আন্ডার টোনের কন্সিলার ব্যবহার করতে পারেন যেটা আপনার শেডের চেয়ে ১/২ শেড লাইট হবে। 

★★কিভাবে ব্যবহার করবেন 

 ফাউন্ডেশন কেনার পর আরেকটি সমস্যা আমাদের চিন্তার কারণ হয় সেটা হলো কিভাবে ব্যবহার করলে আপনার মেকাপটা সুন্দর হবে! 

মেকাপ কতটা সুন্দর ভাবে সেট থাকবে সেটার ৬০% ই নির্ভর করে আপনার ফাউন্ডেশন Blending এর উপর। আপনি যতই যাচাই বাছাই করে ফাউন্ডেশন কিনেন না কেন যদি আপনি সঠিকভাবে Blending না করেন  তাহলে কখনও মেকাপ সুন্দর আর ফ্ল-লেস হবে না। 

১) স্পঞ্জ : Blending  এর জন্য সবচেয়ে সুবিধা হয় স্পঞ্জ ব্যবহার করা। শুকনো Sponge/Beauty Blender ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে অতিরিক্ত পানি চেপে বের করে ফেলুন। 

এরপর মুখে পরিমান মতো ফাউন্ডেশন দিয়ে হালকা হাতে ড্যাব ড্যাব করে ভালোভাবে Blend করুন। 

২) ফাউন্ডেশন ব্রাশ : ফাউন্ডেশন ব্রাশ ব্যবহার করেও ফাউন্ডেশন ব্ল্যান্ড করতে পারেন। কিন্তু অনেকের ধারণা মতে, ব্রাশ দিয়ে ফাউন্ডেশন ব্ল্যান্ড ভালোভাবে হয় না। যদি আপনিও এটি মনে করেন তাহলে আপনার ধারণা ভুল।

ব্রাশ দিয়ে ফাউন্ডেশন  Blend করতে আপনাকে কয়েকটি টেকনিক খেয়াল রাখতে হবে৷ 

ব্রাশ দিয়ে ফাউন্ডেশন Blend  করার সময় Blending  টা করতে হবে উপর থেকে নিচের দিকে অল্প অল্প অংশ নিয়ে। এতে করে আপনার ফাউন্ডেশন খুব সুন্দর করে ব্ল্যান্ড হয় মুখের পুরো অংশে।    

★★টিপস

১) ফাউন্ডেশন ব্যবহারের সময় অবশ্যই অল্প অল্প প্রোডাক্টস নিয়ে ব্ল্যান্ড করতে হবে পুরো মুখে। অতিরিক্ত প্রোডাক্টস নিলে মেকাপ Cakey হয়ে যায় যেটি দেখতে ভালো লাগে না। 

২) ফাউন্ডেশন কেনার সময় খেয়াল রাখবেন ফাউন্ডেশন নিজের স্কিন শেডের নেওয়ার। কিংবা শেড থেকে ১শেড লাইট নেওয়া। যদি এরচেয়ে বেশী লাইট নেন সেক্ষেত্রে মেকাপ Cakey হয়ে যায়।

৩) ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই আপনার স্কিন উপযোগী প্রাইমার ব্যবহার করে নিতে হবে এতে আপনার ফাউন্ডেশন ব্ল্যান্ডি ভালো হবে এবং দীর্ঘসময় সেট থাকবে। 

৪) আপনার ত্বক যদি শুষ্ক কিংবা অতিরিক্ত শুষ্ক হয় তাহলে সিরাম কিংবা ফেস অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ত্বক খুব তাড়াতাড়ি শুষে নিয়ে স্কিন কে ফাউন্ডেশন ফ্রেন্ডলি করে তোলে। 

অয়েলের ক্ষেত্রে Skin cafe Argan oil উপকারী।

৫) আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত কিংবা অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয় তাহলে কম্পেক্ট পাউডার কিংবা বেকিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ফাউন্ডেশন সেট করে নিন। এতে ফাউন্ডেশন সরে যাওয়ার সমস্যায় পড়তে হবে না।

নারী মানেই সাজসজ্জা এবং পরিপাটি। যদি আপনার ফাউন্ডেশন এবং ফাউন্ডেশনের শেড হয় সঠিক তাহলে আপনাকে পরিপাটি দেখাতে বাধ্য।

তাই এখন সবক’টি নিয়ম মেনে দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে কিনে নিন আপনার পছন্দের ফাউন্ডেশন আর নিজেকে সাজিয়ে নিন আপনার পছন্দের সাজে। আপনার ত্বক অনুযায়ী ফাউন্ডেশন কিনতে ভিজিট করুন এইখানে www.carnesia.com

 

লেখকঃ তাঞ্জিলা কামাল ( প্রোডাক্ট এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *