ঘরে বসেই চুলের যত্ন ও সকল সমস্যার সমাধান

আমাদের মাথায় যত না চুল তার থেকে বেশি চুলের সমস্যা। খুশকি,চুল পড়া,চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া,

আগা ফেটে যাওয়া, চুল বড় না হওয়া বড় কত কি। নউফফফফ!

চুলের যত্ন

 

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চুল ঠিক রাখা একটা যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু নয়। চুলের এমন বাজে

অবস্থা হলে আমাদের বড় কনফিডেন্স ও অনেক নেমে যায় ।চুল খুলে রাখা তো দূর সেলফি তুলতেও ইচ্ছা করেনা।

তবে একটা কথা মানতেই হবে চুল জিনিসটা মেয়েদের মতো ডিমান্ডিং তার সবকিছুতে এক্সট্রা কেয়ার চাই।

তাই আজ শেয়ার করব চুলের যত্নে কিছু কার্যকরী টিপস আর ঘরোয়া হেয়ার প্যাক। এই প্যাকের প্রত্যেকটি উপকরণই আমাদের হাতের কাছে থাকে তাই যে কেওই ব্যাবহার করতে পারবেন।

প্রথমেই বলে রাখি চুলের যত্নে তেলের কার্যকারিতা অতুলনীয় আপনি আর যাই করেন না কেনো রুটিনে তেল না থাকলে চুল থাকবেনা।

১ম পদ্ধতি- এই প্যাকটি সপ্তাহে একবার ব্যাবহারে খুশকি দূর হবে,আপনি পাবেন ঝলমলে, প্রাণবন্ত চুল

উপকরণঃ

ডিম -১টি

মেথি পাউডার- ২টেবিল চামচ (according to hair length )

টকদই- ১ টেবিল চামচ

লেবুর রস- ২ টেবিল চামচ

যেকোন তেল– ১ চা চামচ (নারকেল,অলিভ,আমন্ড)

এতে থাকা ডিম, মেথি খুশকি দূর করবে, চুলের গোড়াকে মজবুত করে তুলবে। লেবুর রসে আছে ন্যাচারাল এন্টিওক্সিডেন্ট যা চুলে সিল্কি,সাইনি এফেক্ট আনবে ।

চুলের যত্নে ত্বক দই

 

২য় পদ্ধতি- এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যাবহারে আপনি পাবেন স্ট্রং, হেলদি চুল

উপকরণ

এলোভেরা জেল-১ টেবিল চামচ

কোকোনাট মিল্ক-২ টেবিল চামচ

মেহেদি পাউডার- ২ টেবিল চামচ (according to hair length)

পেয়াজের রস-২ টেবিল চামচ

ক্যাস্টর ওয়েল– ২ টেবিল চামচ

ব্ল্যাক টি- পরিমাণ মতো ( গরম পানিতে শুধু চা -পাতা দিয়ে ফুটালেই তৈরি হয়ে যাবে)

 

এই প্যাকটিতে থাকা ক্যাস্টর ওয়েল,মেহেদি পাউডার, কোকোনাট মিল্ক চুলের গোড়াকে মজবুত করবে। পেয়াজের রস চুল পরা রোধ করবে।

চুলের যত্নে কাস্টার ওয়েল

 

৩য় পদ্ধতি- যাদের চুল রুক্ষ ,বড় হয়না তাদের জন্য এই প্যাকটি মাস্ট ট্রাই আইটেম। এতে এমন কিছু উপকরণ আছে যা আপনার চুলকে বড় হতে সাহায্য করবে ।

উপকরণঃ

কলা- ১/২ টি (১ টি ডিম ও ব্যাবহার করতে পারেন)

আমলা পাউডার- ২ টেবিল চামচ (according to hair length)

কোকোনাট মিল্ক- ২ টেবিল চামচ

অলিভ/মাস্টার্ড ওয়েল– ২ টেবিল চামচ

ক্যাস্টর ওয়েল- ১ টেবিল চামচ

ভিটামিন-ই ক্যাপসুল – ২-৩ টি

এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যাবহারে আপনি পাবেন লম্বা,ঘন আর মজবুত চুল।

ব্যাবহারবিধিঃ চুলে সাইড বাই সাইড পার্টিশন করে একটি ব্রাশ বা কটন প্যাডের সাহায্যে পুরো চুলে লাগিয়ে ফেলুন।অন্ততপক্ষে ৪৫ মিনিট-১ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু কন্ডিশনার করে নিন। পছন্দের সিরাম লাগিয়ে নিন।

চুলের যত্নে মাস্টার ওয়েল

 

★এই প্রত্যেকটি প্যাক ব্যাবহারের পুর্বে অবশ্যই ভালোভাবে চুল আচড়াতে হবে যেন চুলে কোন জট বেঁ্ধে না থাকে। এরপর হট ওয়েল ম্যাসাজ করতে হবে। যেভাবে হট ওয়েল বানাবেন-

  • কোকোনাট ওয়েল, অলিভ অয়েল,আমন্ড ওয়েল এর সাথে যেকোনো এসেন্সিয়াল ওয়েল মিশিয়ে (পেপারমিন্ট ওয়েল হলে ভালো) ডাবল বোয়েলিং প্রসেস এ গরম করে নিন। তারপর চুলের স্ক্যাল্প ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে নি। এতে মাথার ব্লাড সার্কুলেশন বাড়বে,চুলের গোড়া মজবুত হবে।

ভালো রেজাল্ট পেতে একটি টাওয়াল গরম পানিতে ভিজিয়ে নিয়ে চুলে ৫-১০ মিনিট স্টিম দিয়ে নিন এতে তেলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে

 

এক্সট্রা টিপ্সঃ আমরা অনেকেই চুলের যত্নে কিছু কমন মিস্টেক করি যেমন-

  • চুলে খুবই হার্স ভাবে শ্যাম্পু করি ও আচড়াই যা চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয়। খুবই আলতো ভাবে চুল ধোয়া ও আচড়ানোর কাজ করতে হবে।
  • রাতে ঘুমানোর আগে আটোসাটো বেণী না করে লুজ বেণী বা খোপা করে রাখলে চুল বেশি ভালো থাকে
  • কটনের বালিশের কভার খুবই হার্শ হয়, তাই সিল্ক বা পিচ্ছিল ধরনের কাপড়ের বালিশের কভার ব্যাবহার করা চুলের জন্য খুবই ভালো এতে চুলের আগা ফাটা রোধ হয়
  • প্রতিদিন ২-৩ বার চুল আচড়ানো চুলের জন্য ভালো এতে ব্লাডসার্কুলেশন সতেজ থাকে চুলকে দেখতেও প্রাণবন্ত লাগে।
  • সালফেট, প্যারাবিন, মিনারেল ওয়েল সহ শ্যাম্পু চুলের জন্য ক্ষতিকর তাই এসব ক্যামিকেল এভোয়েড করতে হবে
  • সপ্তাহে অন্তত দুইবার চুলে হট ওয়েল ম্যাসাজ করতে হবে দু-বারের বেশি শ্যাম্পু ইউজ করা ঠিক না। স্ক্যাল্প যদি ওয়েলি হয়ে যায় তাহলে এপেল সিডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন এতে চুলের গ্রিজি ভাব দূর হবে

 

এই কয়েকটি স্টেপ ফলো করলেই চুলের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এমন আরও কিছু টিপস এবং চুলের যত্নের সব ধরনের প্রোডাক্ট পেতে কারনেসিয়ার সাথেই থাকুন।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back To Top