Get rid of dandruff forever

NYX bangladesh

বর্তমান যুগে নারী পুরুষ সবাই চুল নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। আমাদের প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা  চুল পরিচর্যার অভাবের সঙ্গে পরিবেশ দূষণে চুলের বারোটা বেজে যাচ্ছে। চুলের সৌন্দর্য কে না চাই!  নারী পুরুষ সবার মূল সৌন্দর্য নিহত তাদের চুলের মাধ্যমে। কিন্তুু নানা ব্যয়বহুল প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন চুলের সৌন্দর্যময়ের জন্য তারপরেও সমস্যার শেষ রক্ষা হয় না। চুলের সব রকম সমস্যার মাধ্যে খুশকি অনেক বড় সমস্যা। যা একজন ব্যক্তিকে তার চুলের সৌন্দর্য লুকাতে বাধ্য করে।

খুশকি কোনো রোগ নয়। এটি মাথার স্ক্যাল্পের শুষ্ক মরা চামড়া যা ম্যালেসেজিয়া নামক এক ধরণে ফাঙ্গাসে অতিরিক্ত হওয়ার কারণেই হয়ে থাকে । মুলত মাথার স্কাল্পে সব সময় কিছু নতুন কোষ হয় আর কিছু পুরনো কোষ ঝরে যায়। এটা একটা চক্র। কিন্তু যখন পুরনো মরা কোষ জমে যায় এবং ফাঙ্গাস সংক্রমিত হয় তখন খুশকি হয়।

মাথা থেকে সাদা আঁশের মতো গুঁড়া পড়তে থাকে এবং সে সাথে চুলকানি হয়। অর্থাৎ মাথা থেকে আঁশের মতো মরা চামড়া ওঠাকে খুশকি বলে। যা সাধারনত শীত কালে একটু বেশি দেখা যায় । তবে যদি মাথার এই মরা চামড়াতে ফাঙ্গাস আক্রমন করে তখন অসহ্যকর চুলকানি দেখা দেয়,বা অনেকের সামান্য ইনফেকশন হতে দেখা যায় – তখন একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় Seborrheic dermatitis নামে একটি চর্ম রোগ বলা হয়ে থাকে। 

মনে রাখতে হবে, খুশকি পুরো নির্মূল করা সম্ভব নয়। খুসকি যুক্ত ফাঙ্গাস শরিরের  অন্যান্য জায়গায় চড়িয়ে যেতে পারে, যেমন, ভুরু, নাক, নাকের পাশের খাঁজ, ঠোঁট, কান, কানের পেছনে, কানের ভেতরের অংশে প্রকাশ পেতে পারে। চোখের পাতাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যাকে বলা হয় ব্লেফাবাইটিস। এতে চোখের পাতা লালচে হয় এবং ছোট ছোট সাদা আঁশের মতো মরা চামড়া উঠতে দেখা যায়। 

এছাড়া দাড়ি, গোঁফ ইত্যাদি অংশও আক্রান্ত হতে পারে । আবার অনেক সময় সেবোরিক ডার্মাটাইটিসের সাথে অন্যান্য বেক্টোরিয়া সংযুক্ত হয়ে কিছুটা বেশি ইনফেকশন দেখা দিতে পারে যা দেখতে একজিমার মত মনে হয়। মনে রাখতে হবে সোরিয়াসিস এর কারনেও চুলের গোড়ার আঁশ উঠে তবে সোরিয়াসিস এর আঁশ খুবি চিকন ও পাতলা এবং একেবারে শুষ্ক ।  অন্য দিকে খুস্কির মরা চামড়া তৈলাক্ত ও বাদামি বর্ণের , এ ছাড়া চুলের গোড়ায় সোরিয়াসিস হলে স্পস্ট কিছু বাদামি দাগ থাকবেই এছাড়া মাথার লোমকূপে ময়লা জমে এবং ছত্রাকের প্রভাবে খুশকি হয়। 

অত্যধিক চুল ঝরা, রুক্ষ চুল, বিভিন্ন ধরনের স্ক্যাল্প ইনফেকশনের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দায়ী এই খুশকি। তাই খুশকির সমস্যার সমাধানে সঠিক সময়ে তৎপর না হলে মাথা ভরা চুল ঝরে যেতে পারে অল্পদিনেই।

 

 খুশকি যে যে কারনে হয়ে থাকে-

খুশকি  অনেকগুলো কারনে হয়ে থাকে। কিছু সাধারন কারন নিচে  উল্লেখ করা হলো:

। শুষ্ক ত্বকের কারণে খুশকি হয়ে থাকে। শীতে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বকের শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ও ঘরের তুলনামূলক গরম বাতাসের ফলে তাপমাত্রার যে অসামাঞ্জস্যতা দেখা যায় সে কারণেও খুশকি হয়ে থাকে।

২। চুল যথেষ্ট পরিমাণে না আঁচড়ালেও খুশকি হয়ে থাকে। এর কারণ হচ্ছে মাথার ত্বকের চামড়ার ঝরে যাওয়ার প্রবণতা। চুল কম আঁচড়ালে মৃত চামড়াগুলো ঝরে পড়ে না ও খুশকির সৃষ্টি করে।বিশেষ করে মাথায় অতিরিক্ত তৈল ব্যাবহার কারীদের বেশি হয়ে থাকে যদি ব্যাবহার কৃত তৈল স্তুপ আকারে চুলের গোড়ায় জমা হয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে সেখানে ছত্রাকের বাসস্থান হতে দেখা যায় ।

৩। পর্যাপ্ত পরিমাণে শ্যাম্পু না করলে মাথার ত্বক অপরিষ্কার হয় যা থেকে খুশকির উৎপত্তি হতে পারে।

৪। খাদ্যাভাসও খুশকির অন্যতম কারণ। পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি ও জিংক গ্রহণ না করলে খুশকি হয়ে থাকে। কিছু বিশেষ চর্বি জাতীয় খাদ্য অধিক গ্রহণ করে থাকলেও খুশকি হয়।

৫।ম্যালেসেজিয়া নামক এক ধরণে ফাঙ্গাসের কারণেও খুশকি হয়ে থাকে। এটি সকলের স্ক্যাল্পেই থাকে এবং কোন সমস্যার সৃষ্টি করে না। কিন্তু এটির পরিমাণ বেশি বেড়ে গেলে তা ত্বকের ক্ষরিত তেল শোষণ করে নেয়। যার ফলে স্ক্যাল্প অতিরিক্ত ত্বকীয় কোষ উৎপাদন করে থাকে। এ সকল অতিরিক্ত কোষ মৃত হলে স্ক্যাল্প ও চুলের তেলের সাথে মিশে খুশকির সৃষ্টি করে।

৬। মানসিক চাপও খুশকির একটি কারণ। যারা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন তাদের মধ্যে খুশকি প্রবণতা বেশি পরিলক্ষিত হয়।

৭। কিছু বিশেষ রোগ (যেমন- পারকিন্সন ডিসিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি) খুশকি প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া সেন্সিটিভ ত্বক ও ত্বকের কিছু সমস্যা (যেমন – সোরিয়াসিস, একযেমা ইত্যাদি) খুশকি সৃষ্টি করে। ওষুধ, চুল ও ত্বকের নানা দ্রব্যের রিএকশনের ফলেও খুশকি হয়। এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের খুশকি বেশি হয়ে থাকে।

৮। অনেকসময় পানি থেকেও খুশকি হয়। পানিতে ক্লোরিন বেশি থাকলে ত্বক শুষ্ক করে থাকে এর ফলেই খুশকি বৃদ্ধি পায়।

৯। পানি কম খাওয়ার অভ্যাস খুশকি হওয়ার অন্যতম কারণ।

১০। বংশগত কারনেও খুশকি হয়ে থাকে।এর জন্য ঘরোয়া পরিচর্যায়ও অনেক সময় কাজ হয় না।এছাড়াও খুশকি আছে এমন কারও চিরুনি দিয়েও মাথা আঁচড়ালেও খুশকি হয়ে থাকে।

Milani in Bangladesh

খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

চুলের খুশকি নিয়ন্ত্রণে রাখাটা অনেকের কাছেই যেন অসাধ্য! কিন্তু নানা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে ঘরে বসেই খুশকির  ঘরোয়া উপায়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১।Tea Tree Oil : এটাতে অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটোরি উপাদান আছে যেটা খুশকি দূর করে। আঙ্গুলে নিয়া যেভাবে মাথায় তেল দেন, সেভাবে দিবেন।(Skin Cafe Natural Essential Oil – Tea Tree, The Body Shop Tea Tree Oil, Xpel tea tree oil) ভালো tea tree oil ব্যবহার করা যায়।

 

২। নারিকেল তেল : মাথার তালুর পানি-শূন্যতা এবং খুশকি ও হাঁপানির প্রবণতা কমিয়ে দেয়। নারিকেল তেল কমকরেও ৩ দিন পর পর দিবেন। বেশি না, আবার কমও না, পরিমিত। ( Ilana Coconut Oil, Skin cafe coconut oil, Palmer’s Coconut Oil)

৩। অ্যালো ভেরা : অ্যালোভেরার জেল ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস প্রতিরোধী। একটা ডাল ভেঙ্গে ঐটার জেল চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রেখে দিবেন ১০-১৫ মিনিট, এরপর স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। গাছ না থাকলে  (Nature Republic Soothing & Moisture Aloe Vera 92% Soothing Gel, Aloe pure gel) ব্যাবহার করতে পারবেন ।

 

৪) শ্যাম্পু বদলে ফেলুন। খুশকিনাশক শ্যাম্পু যেমন- জেডিপিটি অর্থাৎ জিংক পাইরিথিওন (Zinc pyrithione) যুক্ত শ্যাম্পু সপ্তাহে একদিন করে একমাস ব্যবহার করুন। বেস্ট  shampoo price in Bangladesh  জানতে ভিসিট করুন কারনেসিয়া ওয়েবসাইট :

১) Alpecin Dandruff Killer Shampoo 

২) Alpecin Double Effect Shampoo 

৩) The Body Shop Ginger Anti Dandruff Shampoo

এই শ্যাম্পুগুলোর মধ্যে যেটা চুলে মানাবে সেটা ব্যবহার করতে পারেন।

৫) স্ক্যাল্প শুষ্ক প্রকৃতির হলে শ্যাম্পু করার আগের রাতে অথবা শ্যাম্পু করার দুই ঘন্টা আগে অলিভ ওয়েল লাগাতে পারেন।

৬) চুল সবসময় পরিষ্কার রাখুন। যারা সবসময় ঘরে থাকেন তারা একদিন পরপর শ্যাম্পু করতে পারেন। আর যারা বাইরে যান তাদের প্রতিদিন শ্যাম্পু করা উচিত।

৭) নারকেল তেল গরম করে তাতে লেবুর রস মিশিয়ে তুলো দিয়ে চেপে চেপে স্ক্যাল্পে লাগান। ঘন্টাখানেক পর গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে মাথায় জড়িয়ে রাখুন ১০ মিনিট। এভাবে পরপর তিনবার করুন। তারপর তোয়ালে বরফ মেশানো ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে একই পদ্ধতিতে ৫ মিনিট রাখুন। এবার তোয়ালে খুলে চুলের গোড়ায় হেয়ার প্যাক লাগিয়ে ১ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

৮) মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে বেটে তাঁর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে লাগান। ২ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করুন।

৯) চায়ের লিকার ঘন করে তাঁর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে চুলে আধা ঘন্টা লাগিয়ে রাখুন। তারপর ভালোভাবে শ্যাম্পু করুন।

১০) ১ কাপ ঘন টক দইয়ের সঙ্গে ১ কাপ পানি ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। পরের দিন শ্যাম্পু করুন।

১১) একমুঠো নিমপাতা ৪ কাপ পানিতে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে ছেঁকে নিন। এই পানি দিয়ে মাথা ও চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করুন এই পানি। এতে আপনার খুশকি অচিরেই দূর হবে।

১২) ২-৩ টি আমলকি পেস্ট করে নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে স্কাল্পে লাগিয়ে নিন। ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার লাগালেই খুশকি দূর হয়ে যাবে।

১৩) খুশকি ভরা মাথায় অ্যালোভেরা রস মেখে নিলে দারুণ আরাম পাবেন। খুশকির জ্বালায় দিনরাত চুলকানো থেকে খানিকটা ছুটিও দেবে অ্যালোভেরার রসের শীতল ছোঁয়া।

১৪)খুশকি হলে চিরুনি, ব্রাশ, তোয়ালে ও বালিশের কভার প্রতিদিন পরিষ্কার করুন। এসব জিনিস একে অন্যেরটা ব্যবহার করা উচিত নয়। চিকন দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন।

১৫) চুলে কালার করা হলে লেবুর রস টক দই ব্যবহার করবেন না। লেবুর রস ও টক দই সারারাত মাথায় লাগিয়ে রাখলে চুল ভালো থাকে এ কথা ভুল। এতে চুলের বেশি ক্ষতি হয়।

১৬) যারা বাসায় চুলের যত্ন নিতে পারেন না তারা ভালো কোন স্যালুনে গিয়ে মাসে অন্তত দু’বার হেয়ার ট্রিটমেন্ট বা হেয়ার স্পা কিংবা প্রোটিন ট্রিটমেন্ট করাতে পারেন অথবা বাজারে হেয়ার ট্রিটমেন্ট বা হেয়ার স্পা কিংবা প্রোটিন ট্রিটমেন্ট পাওয়া যায় এটিও ব্যাবহার করতে পারবেন। এতে চুল ঝরঝরে ও খুশকি মুক্ত থাকবে।

১৭) চুলের গোড়ায় মেহেদি জমে খুশকি হয়, তাই মেহেদির রস ব্যবহার করাই উত্তম।

১৮) হালকা পানিতে মাথা ভিজিয়ে নিয়ে খানিকটা বেকিং সোডা পুরো মাথায় মেখে নিন। ভালো করে ঘষে ঘষে শ্যাম্পু না করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটা মাথার খুলিতে থাকা ছত্রাক দমন করে প্রথমদিকে ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে। কিন্তু অল্পদিনেই ত্বকে স্বাভাবিক তৈলাক্ত অবস্থা ফিরে আসবে। কিন্তু এ সময়ে আপনি খুশকি থেকে মুক্তি পাবেন।

১৯) পেঁয়াজ ভালো করে বেটে পানিতে মিশিয়ে নিন। মাথায় এই পেঁয়াজের রস ভালো করে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষন  পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। পেঁয়াজের গন্ধ দূর করতে লেবুর রস দিতে পারেন  পানিতে।

★★★যাদের মাথায় খুশকি হয় তারা মাথা ভেজা রাখবেন না, বরং সব সময় পরিষ্কার রাখবেন । চুল ভেজা অবস্তায় বাঁধাও উচিত নয় কারন তাতে চুলের নিচে পানি আটকা পড়ে ত্বক ভেজা থাকে, যা কিনা এই রোগ বাড়তে সাহায্য করে। 

আমরা চাইলেই এর প্রতিকার করতেও সক্ষম। যদি সঠিক পদক্ষেপ অবলম্বন করি। এর প্রতিকার উন্নতমানের প্রসাধনী ব্যবহারে যেমন রয়েছে তেমনি এসব ঘরোয়া পরিচর্যার মাধ্যমে কোন প্রকার ক্ষতি ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেও  সম্ভব। এরপরও যদি চুলে খুশকি হয়, তাহলে ভালো কোনো পার্লারে গিয়ে হারবাল ট্রিটমেন্ট কিংবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এভাবে চুলের যত্ন নিলে শুধু চুলের খুশকি দূর হবে না, সেই সঙ্গে চুল হবে সুস্থ ও সুন্দর।

 

 ঘরোয়া উপায় ঝামেলা মনে হলে খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে carnesia থেকে অথেনটিক প্রোডাক্ট কিনতে পারেন।  অনলাইনে  carnesia.com  থেকে নিতে পারেন । আবার  শোরুমের জন্য ধানমন্ডির জেনেটিক প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স  শপ থেকেও কিনতে পারেন আপনার প্রয়োজনীয়  প্রোডাক্ট।

 

লেখকঃ জাহান জিনাত ( বিউটি এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *