রুক্ষ এবং শুষ্ক চুলের জন্য টিপস এবং সহজ সমাধান

Tips and easy solutions for rough and dry hair

বলা হয়ে থাকে, ” নারীর সৌন্দর্য নিহিত থাকে তার চুলে”। চুলের সৌন্দর্য একটা নারীকে আরোও বেশী সুন্দর করে তোলে। চুলকে সুন্দর, প্রানবন্ত রাখার চেষ্টায় মেতে থাকি আমরা সবাই কিন্তু তাও যেন আমরা ব্যর্থ। চুলের হাজারো সমস্যা কে ঘিরে তাই আমাদের দুশ্চিন্তারও শেষ নেই। 

চুল রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়া তার মধ্যে একটি।  

আমাদের মধ্যে বেশীরভাগ মেয়ে ই এই সমস্যায় ভুগছেন প্রতিনিয়ত। 

কিন্তু খুব সহজ কিছু টিপস এবং কিছু Do’s &  Don’t মেনে চললেই আপনি  মুক্তি পেতে পারেন চুল রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে।

 

চুলকে কোমল এবং প্রাণবন্ত করতে যা যা করণীয়ঃ

আমাদের ত্বকের কেয়ার আমরা কিভাবে নিই?  একটু ভাবুন তো!! 

ত্বকের কেয়ার নিয়ে কথা বলাতে আমি সিউর ৯০% আপুরাই ভাবছেন কয়েকটি ধাপ নিয়ে, ফেসওয়াশ,স্ক্রাব,মাস্ক,ময়েশ্চারাইজার এসব নিয়ে। এগুলো যেমন সুস্থ  ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের চুলের যত্ন নেয়া।

এখন বলতে পারেন কিভাবে আপনি চুলের রেগুলার রুটিন অনুসরণ করবেন  রুক্ষ এবং শুষ্ক চুল দূর করে কোমল এবং প্রাণবন্ত করতে।

Jordana in Bangladesh

★★Before hair wash কি কি করণীয়ঃ 

১) অয়েল ম্যাসাজঃ  তেল চটচটে অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমরা তেল ব্যবহারে অনীহা হয়ে থাকে   যার কারণে আমাদের চুল হয়ে যায় নিস্তেজ। কিন্তু শুনলে অবাক হবেন চুলের ৯০% সমস্যার সমাধান তাকে এই অয়েল ম্যাসাজে। এখন অনেকেই বলতে পারেন আপনি নিয়মিত তেল ব্যবহার করেন কিন্তু তাও আপনার চুলের কোমলতা ফিরে পাচ্ছেন না তাহলে নিচের  টিপস আপনার জন্য। 

 

** সবসময় চেষ্টা করুন কয়েকটি অয়েল একসাথে মিক্স করে ব্যবহার করার। Coconut oil, argan oil, castor oil ,olive oil , Almond oil এগুলো চুলের জন্য অত্যধিক উপকারী।  সবগুলো থেকে আপনার পরিমাণ মত নিয়ে হালকা একটু  কুসুম গরম করে চুলের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। এটি আপনার চুলকে প্রাণবন্ত করতে খুব দ্রুত কাজ করবে।

সাধারণত আমরা অনেকেই রাতে তেল দিয়ে সারারাত রেখে তারপরের দিনে ওয়াশ করি। সারারাত রাখার কারণে আমাদের চুলের গোড়া অনেক বেশী নরম হয়ে যায়, যার কারণে চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। তাই চেষ্টা করুন চুল ওয়াশ করার ১/২ ঘন্টা আগে তেল ব্যবহার করার। এতে আপনার চুল কোমল হবে সাথে ঝরে পড়ার সমস্যা ও কমবে।

Maybelline in Bangladesh

২)মাস্ক ব্যবহারঃ ঘরোয়া উপায়ে কিছু মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন যেটা আপনার Hair damage, hair fall,  Hair rough হয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

* মেয়োনিজ এবং অ্যাভাকাডো মাস্কঃ  ১কাপ মেয়োনিজ আর সাথে হাফ কাপ অ্যাভাকাডো পেস্ট ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে পুরো চুলে এবং চুলের গোড়ায় লাগিয়ে একটি শাওয়ার ক্যাপে চুল আটকে রাখতে হবে মিনিমাম ২০ মিনিট। এরপর ওয়াশ করে নিতে হবে ভালোভাবে। 

এটি সপ্তাহে ১বার ব্যবহার করতে পারেন।

 মেয়োনিজ এবং অ্যাভাকাডো চুলে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে সিল্কি ও মজবুত  করতে সহায়তা করে। 

 

*Coconut oil & Egg মাস্কঃ  আপনার পরিমাণ মত Skin cafe coconut oil নিন, ১টি ডিমের সাদা অংশ নিন এবং ১চামচ পানির সাথে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন।এরপর মাস্কটি আপনার পুরো চুলে ভালো ভাবে লাগিয়ে নিয়ে ২০/৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন চাইলে ১ঘন্টাও রাখতে পারেন।এরপর আপনার পছন্দের শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটা খুবই লাইট একটি মাস্ক যা আপনি সপ্তাহে ২/৩বার ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার চুলকে বাউন্সি করতেও সহায়তা করবে।যাদের চুলের তৈলাক্ত ভাব শ্যাম্পু করার পরও না যাওয়ার কারণে তেল ব্যবহার করতে চান না এই মাস্কটা আপনার জন্য খুবই কার্যকরী। লাইট মাস্ক হওয়ার কারণে খুব সহজেই চুল থেকে ওয়াশ করে নিতে পারবেন সাথে তৈলাক্ত স্ক্যাল্প থেকেও মুক্তি পাবেন।

 

*অ্যালোভেরা মাস্কঃ ৪ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা পেস্ট ,৩টেবিল চামচ টক দই সাথে ২ টেবিল চামচ তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। ১/২ ঘন্টা পর ধুয়ে ফেলুন। 

অ্যালোভেরা আপনার চুলের গ্রোথ বাড়াতে সাহায্য করে চুল ভেঙ্গে পড়া রোধ করে, দই আপনার  চুলকে ঝলমলে করতে সাহায্য করে আপনার চুলের রুক্ষতা কমিয়ে আনে।

অ্যালোভেরা গাছের পাতা থেকে জেল বের করে ব্যবহার করা অনেকটাই সময় সাপেক্ষ তাই আপনারা কম সময়ে মাস্কটি তৈরী করতে Nature replublic Aloe gel ব্যবহার করতে পারেন এটা একটি অর্গানিক অ্যালোভেরা জেল।

 

*প্রোটিন প্যাকঃ  চুলের রুক্ষতা দূর করতে প্রোটিন খুবই আবশ্যক। চুলে প্রোটিনের ঘাটতি কমাতে Plamer’s coconut oil protein pack টি ব্যবহার করতে পারেন। খুব দ্রুত কার্যকরী এটি।

যাদের চুল খুব বেশী রুক্ষ এবং শুষ্ক তারা plamer’s coconut oil protein pack টি ব্যবহার করে খুব দ্রুত সমাধান পেতে পারেন।

৩)শ্যাম্পু ব্যবহার বিধিঃ আপনার চুল যদি রুক্ষ এবং শুষ্ক হয় তাহলে আপনাকে শ্যাম্পু ব্যবহারে খুবই সচেতন হতে হবে।

**Raw shampoo: নিয়মিত Raw shampoo ব্যবহার করা পরিহার করুন। Raw shampoo রেগুলার ব্যবহারের কারণে  চুল অনেক বেশী শুষ্ক করে দেয়। সপ্তাহে ১বার Raw shampoo ব্যবহার করতে পারেন যদি আপনি খুব বেশী বাহিরে যান সেক্ষেত্রে। 

**Mild shampoo: শ্যাম্পু ব্যবহারের ক্ষেত্রে Mild shampoo গুলোর দিকে গুরুত্ব দেন। সব সময় সালফেট ফ্রী প্রোডাক্টস ব্যবহার করুন চুলে। এতে আপনার চুল হাইড্রেট থাকবে এবং নিস্তেজ হওয়ার সমস্যা থেকে খানিকটা মুক্তি পাবেন।  যেমন, The body shop Rainforest shampoo, Herbal essence white mint shampoo, Natural world Argail oil of moroccan shampoo এছাড়াও herbal essence এর Bio:renew  সিরিজের শ্যাম্পুগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো খুবই mild  কিছু শ্যাম্পু।

Milani in Bangladesh

** Dry shampoo: প্রতিদিন শ্যাম্পু করা থেকে বিরত থাকুন এটি আপনার চুলের হাইড্রেশন কমিয়ে রুক্ষ করে দেয় যার ফল স্বরূপ চুল ভেঙ্গে পড়ে। সপ্তাহে ২/৩ বার শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।  

আর যারা নিয়মিত বাহিরে যান ধূলো-বালিতে/ হিজাব পড়ে বাহিরে থাকেন আপনাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই আপনার প্রতিদিন শ্যাম্পু করার প্রয়োজন হলে Dry shampoo ব্যবহার করে নিতে পারেন।এতে আপনার স্ক্যাল্প clean থাকবে।

Herbal essence এর Dry shampoo ব্যবহার করতে পারেন এটি Mild হওয়ার কারণে আপনার চুলকে প্রটেক্ট করতে সাহায্য করবে।

 

 

৪)কন্ডিশনারের ব্যবহারঃ শ্যাম্পু করার পর চুল খানিকটা Rough হয়ে যায় তাই কন্ডিশনার ব্যবহার করা আব্যশক। এটি আপনার চুলে হাইড্রেশন ফিরিয়ে এনে আপনার শুষ্ক চুলকে নমনীয় করবে। রুক্ষ এবং শুষ্ক চুলে সবসময় ডিপ-কন্ডিশনিং হয় এমন কন্ডিশনার ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। 

সেক্ষেত্রে Garnier Nourishing  Hair food গুলো ব্যবহার করতে পারেন এটি একই সাথে কন্ডিশনার,মাস্ক এবং হেয়ার সিরামের কাজ করে। যা আপনার রুক্ষ চুলকে প্রাণবন্ত করতে সাহায্য করবে খুবই সহজে। 

এছাড়া যাদের চুল খুব বেশী রুক্ষ তারা পরিমাণ মত Skin cafe coconut oil কিংবা Ilana coconut oil নিয়ে তার সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটি কানের কাছ থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করে ২মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।  এই মিশ্রণটি আপনার রুক্ষ চুলের আদ্রতা ঠিক রেখে ডিপ কন্ডিশনারের কাজ করবে।

★এবার আসি After wash কি কি করণীয়ঃ

 আমরা আমাদের ত্বক ক্লিন করে যেমন টা টোনার, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করি ঠিক তেমনই চুল ওয়াশ করার পর চুলেরও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা আবশ্যক। নিচে কিছু টিপস দেওয়া হলো আপনাদের বুঝার সুবিধার্তে।

১) অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারঃ শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহারের পর অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের  সাথে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে চুল ধুয়ে নিতে হবে।  এটি আপনার চুলে টোনারের মত কাজ করবে।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার আপনার শুষ্ক চুলকে নমণীয় করতে খুব দ্রুত কার্যকরী এবং চুলকে Shiny করতেও সাহায্য করে। আর আপনার চুল যদি হয় ওয়েভি / কোকঁড়া সেক্ষেত্রে এটি আপনার জন্য আবশ্যক। 

২) Hair serum: চুলে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহারের পর ভেজা চুলে একটি ভালো হেয়ার সিরাম ব্যবহার করুন।  Hair serum আপনার চুলকে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়াও রুক্ষ এবং শুষ্ক চুলের জন্য বাহিরে যাওয়ার আগে Hair serum ব্যবহার করা অপরিহার্য। হেয়ার সিরাম আপনার চুলে আদ্র রেখে আগা ফাটা রোধ করবে। 

এক্ষেত্রে L’Oreal Stylista Sleek Serum ব্যবহার করতে পারেন এটি hair serum এবং Heat protector এর মতো কাজ করে যার কারণে আপনি স্টাইলিং এর আগেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

৩) ময়েশ্চারাইজিং স্প্রেঃ এটি ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরী করা একটি স্প্রে।  আপনার রুক্ষ এবং শুষ্ক চুলে প্রাণ ফেরাতে খুবই কাযর্করী। ২টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ২টেবিল চামচ Coconut oil, ৩-৪ টেবিল চামচ পানি, ১টেবিল চামচ গ্লিসারিন ভালোভাবে ঝাকিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিয়ে রাখুন।  এরপর প্রতিবার চুল ওয়াশ করার পর ভেজা চুলে কানের কাছ থেকে আগা পর্যন্ত স্প্রে করুন। সেক্ষেত্রে স্ক্যাল্পে না দিলেও হবে।

বার বার চুল ধোয়ার কারণে আমাদের হেয়ার স্ক্যাল্প থেকে যে প্রাকৃতিক তেল নির্গত হয় তা কমে যায় যেটা আমাদের চুল রুক্ষ এবং শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি। 

আর এই  ময়েশ্চারাইজিং স্প্রে আপনার চুলের আদ্রতা ঠিক রাখতে সাহায্য করবে। 

এই কয়েকটি টিপস মেনে চলে নিয়মিত আপনার চুলের যত্ন নিলেই, আপনার চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতা চিরতরে বিদায় নিয়ে আপনাকে চিন্তুা মুক্ত রাখবে চুলের সমস্যা নিয়ে।

 

তবে একটি বিষয় আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, সেটি হলো খাদ্য অভ্যাস।

★★খাদ্যোভাসঃ চুলকে ভালো রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। আপনার শরীর ভিতর থেকে আদ্র থাকলে চুলও আর্দ্র থাকবে। পানি কম খাওয়ার কারণেও স্বাভাবিকভাবে চুল রুক্ষ হতে শুরু করে।তাই দৈনন্দিন মিনিমাম ৮গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন।এতে আপনার চুলের রুক্ষতা এবং শুষ্কতা অনেকাংশেই কমে আসবে। 

এছাড়া ফল এবং সবজি খাওয়া প্রয়োজনীয়।  চুলের যত্নে সুষম খাবার খুবই কার্যকর। চুলকে সুন্দর,  প্রাণবন্ত  এবং স্বাস্হ্যোজ্জ্বল করার জন্য বাহিরে পরিচর্যার চেয়ে ভিতর থেকে পুষ্টি বেশী প্রয়োজন। 

কিছু Do’s & Don’t মেনে চললেই রুক্ষ এবং শুষ্ক চুলকে বিদায় দিয়ে আপনিও পেয়ে যেতে পারেন রুপানজেলের মত সুন্দর, প্রানবন্ত চুল খুব সহজে!!

 

লেখকঃ তাঞ্জিলা কামাল ( প্রোডাক্ট এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *