ঘরোয়া সামগ্রী ব্যবহার করে কিভাবে রূপচর্চা করবেন? রূপচর্চায় ২৫ টি কার্যকারী ঘরোয়া টিপস

How to do beauty treatments using home remedies

সুন্দর মানেই কিন্তু ফর্সা হওয়া না। যদি আপনি সৌন্দর্য কে ফর্সা দিয়ে বিশ্লেষণ করেন তাহলে বাকী ৫/১০ জন নারীর তালিকায় আপনিও নিজেকে তালিকাভুক্ত করে নিচ্ছেন,যারা কিনা ফর্সা হওয়ার জন্য দিনের পর দিন কিছু কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। হয়তো রাতারাতি ফলাফল পাচ্ছেন ঠিক ই, তবে এটাই আপনার ত্বকের বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। 

আপনার সৌন্দর্য নির্ভর করছে আপনার ত্বক কতোটা স্বাস্থ্যউজ্জ্বল, প্রাণবন্ত, এবং ব্রণহীন,ও দাগহীন।  

ত্বক স্বাস্থ্যউজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখতে প্রয়োজন রূপচর্চার মাধ্যমে ত্বকের যত্ন নেওয়া।

 

ঘরোয়া ভাবেই কিছু  রূপচর্চা করে নিতে পারেন ত্বকের যত্ন,পেয়ে যেতে পারেন সুন্দর, প্রানবন্ত ত্বক। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক,কিভাবে ঘরে বসেই  রূপচর্চা করবেন  আপনার ত্বকের হাজারো সমস্যার কিছু সহজ সমাধান পেতে!

 

১) ত্বকের পরিচর্যায় লেবু মাস্কঃ  ২টেবিল চামচ পাতিলেবুর সাথে ২টেবিল চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। 

এবার এই মিশ্রণটি আপনার মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের যেকোনো দাগ কে হাল্কা করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে দাগহীন করে তোলে ।লেবুতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের শুষ্কতা কাটিয়ে ত্বক কে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। লেবুর মধ্যে থাকা ব্লিচিং উপাদান ত্বকের ভেতর থেকে দাগকে হাল্কা করে আর মধু মুখের কালচে ভাব দুর করে তোলে। এছাড়াও এই লেবু মাস্ক ব্যবহারে রোদে পোড়া দাগও সহজেই হালকা হয়ে যায়।

nior Bangladesh

২) ত্বকের যত্নে হলুদের ব্যবহারঃ   কাঁচা হলুদ ত্বকে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং আন্টি ইনফ্লামেটরি হিসেবে কাজ করে যা ত্বককে সমস্ত রকম জীবাণু থেকে  রক্ষা করে আর এটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে।

১টেবিল চামচ কাঁচা হলুদের পেস্ট কিংবা গুঁড়ো হলুদ নিয়ে সাথে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ও কাঁচা দুধ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। 

 

এবার মুখে এবং আপনার ট্যান পড়ে যাওয়া জায়গা গুলিতে লাগিয়ে ১৫মিনিট অপেক্ষা 

করুন।  ১৫মিনিট পর কুসুম গরম পানি নিয়ে ভালো ভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২বার এই মাস্কটি ব্যবহার করতে পারেন। 

এই মাস্কটি সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহারে 

ত্বকের বার্ধক্যের ছাপ সরিয়ে দিয়ে ত্বককে সবসময় টান টান এবং উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে।

 

৩)দই মাস্কঃ  দই এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের ক্ষুদ্র লোমকূপে জমে থাকা ময়লাকে টেনে বার করে ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে। 

 

২টেবিল চামচ টক দইয়ের সাথে ১টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণ টি মুখে লাগিয়ে ১৫মিনিট অপেক্ষা করুন। অল্প শুকিয়ে এলেই ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। 

 

এটি সপ্তাহে প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন।দৈনিকভাবে ত্বকে টক দই ব্যবহার করার ফলে ত্বক নমনীয় ও উজ্জ্বল হয়।

 

৪) গোলাপ জলের ব্যবহারঃ  প্রতিদিন সকালে মুখে গোলাপজল ব্যবহার করা অভ্যাস করুন। ত্বকের রূপচর্চায় গোলাপ জল যুগ যুগ ধরে নারীরা ব্যবহার করে আসছে। ঘরোয়া রূপচর্চায় জনপ্রিয় একটি উপাদান সবার কাছে।

আপনার পরিমাণ মত গোলাপজল নিয়ে একটি কটন প্যাডের সাহায্য পুরো মুখে ড্যাব ড্যাব করে লাগিয়ে নিন।এটি ত্বকে জমে থাকা ময়লাকে খুব দ্রুত সরিয়ে সতেজ অনুভব দেয়। 

 

যারা অর্গানিক গোলাপ জল নিয়ে চিন্তিত, আপনারা Skin cafe Rose water  নিতে পারেন। এটা খুব ভালো কাজ করে সবার ত্বকে।

skin cafe rose water In Bangladesh

৫)ত্বকের রূপচর্চায় বেসনঃ  বেসন আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেলের নিঃসরণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি ব্রণ ও ফুসকুড়ি সারাতে একটি অনবদ্য উপাদান। ৪টেবিল চামচ বেসনের সাথে ,১টেবিল চামচ কাঁচা দুধ এবং ১টেবিল চামচ লেবুর রস নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তবে খেয়াল রাখে হবে মিশ্রণ টি যেন পাতলা না হয়।  এবার মুখে লাগিয়ে হালকা হাতে অল্প ম্যাসাজ করুন। এরপর ১৫মিনিট রেখে অল্প শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাস্কটি সপ্তাহে ১বার ব্যবহার করুন।

মুখ থেকে চুলের পরিমাণ কমাতে কিংবা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা দূর করতে, ব্ল্যাকহেডস এর সমস্যা কমাতে, বার্ধক্যজনিত ত্বকের সমস্যা দূর করতে বেসনের ব্যবহার অপরিহার্য।  তবে যাদের ত্বক খুব বেশী শুষ্ক তারা প্রতি ২সপ্তাহ অন্তর ১বার ব্যবহার করুন।

 

৬) অ্যালোভেরা মাস্কঃ অ্যালোভেরা জেলের মধ্যে থাকা ভিটামিন, খনিজ উপাদানগুলি ত্বককে উপযুক্ত পুষ্টি জুগিয়ে ত্বককে আরো সুন্দর করে তোলে। এছাড়াও ব্রণ, পিম্পলস-এর মত গুরুতর সমস্যাগুলির সমাধান করে।

আপনার পরিমাণ মতো অ্যালোভেরা জেল নিয়ে সমপরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে নিন মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। ১৫মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো ভাবে ধুয়ে নিন। 

এই প্যাকটি সকাল এবং রাত দিনে ২বার ব্যবহার করতে পারেন।

 

গাছের অ্যালোভেরা জেল এ অনেকের এলার্জির সমস্যা থাকে  তবে সেক্ষেত্রে Nature Republic aloe gel ব্যবহার করতে পারেন।যাদের পিগমেন্টেশন এবং বাধ্যকজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য এই প্যাকটি খুব কার্যকরী।

 

 

৭)ত্বকের ঘরোয়া  রূপচর্চায় মূলতানি মাটিঃ   মুলতানি মাটিতে থাকা ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় বিভিন্ন খনিজ ত্বককে ভেতর থেকে পরিশুদ্ধ করে তোলে। এছাড়াও তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রণের সমস্যা থাকলে মুলতানি মাটির ব্যবহার করা আবশ্যক।

৪টেবিল চামচ মূলতানি মাটি, ১টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো  এবং সাথে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরী করুন। এরপর মুখে,হাতে এবং গলায় লাগিয়ে ২০মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।এটি সপ্তাহে ১বার ব্যবহার করুন। 

যাদের ত্বক খুব বেশী শুষ্ক তারা গোলাপ জলের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করতে পারেন। মুলতানি মাটি ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল সরিয়ে ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ ব্যালেন্স বজায় রাখে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মূলতানি মাটি খুবই উপযোগী। 

৮) রূপচর্চায় চন্দনের ব্যবহারঃ  ১টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়োর সাথে ২টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরী করুন। এরপর পুরু ভাবে মুখে লাগিয়ে ১৫-২০মিনিট অপেক্ষা করুন।  অল্প শুকিয়ে এলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন । 

যাদের ত্বক খুব বেশী শুষ্ক তারা ১টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিতে পারেন এই মিশ্রণের  সাথে।

 

মুখের মধ্যে থাকা যে কোন ধরনের দাগ ছোপ কিংবা কাটা দাগ সবকিছু নিরাময়ে চন্দনের ব্যবহার অতুলনীয়। চন্দনের মধ্যে এক ধরনের শীতল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ত্বককে ভেতর থেকে পরিচ্ছন্ন এবং সতেজ করে তোলে। এছাড়াও চন্দনের মধ্যে থাকা উপাদানগুলি ত্বককে ব্রণ, ব্রণের দাগ, বার্ধক্য জনিত দাগ, সান ট্যান থেকে রক্ষা করে এবং ত্বককে দাগহীন করে উজ্জ্বল করে তোলে। 

 

৯) শসার ব্যবহারঃ  রূপচর্চায় শসার ভুমিকা অতুলনীয়।  ৩টেবিল চামচ শসার রসের সাথে ১টেবিল চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫-২০মিনিট অপেক্ষা করুন। একটু শুকিয়ে এলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি খুবই লাইট একটি মাস্ক যা আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারবেন৷  

এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে মুখে সাবান লাগানো যাবে না। 

 

শসার মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের নির্জীবতা সরিয়ে ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা প্রদান করে। শসার রস সবচেয়ে ভালো টোনারের কাজ করে। 

 

১০) ত্বক পরিচর্যায় আলুঃ  আলুর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বককে ভেতর থেকে সুন্দর করে তোলে। এটি ত্বকের রিংকেলস কমিয়ে ত্বককে জীবন্ত করে তোলে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের ওপর থেকে যে কোনো রকমের কালো দাগ, ব্রণের দাগ অল্প সময়ে পরিষ্কার করে দিতে পারে।

৩টেবিল চামচ আলুর রস, ১টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন।এরপর ১৫-২০ মিনিট মুখে মিশ্রণটি লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। 

এটি সপ্তাহে ২বার ব্যবহার করতে পারেন

 

 

চোখের নিচের কালো দাগ খুব সহজেই আলু ব্যবহার করে পরিষ্কার করা যায় তাই ঘরোয়া রূপচর্চায় আলুর রস খুব কার্যকরী। এটি ত্বকে রক্ত সঞ্চালন এর ও বৃদ্ধি ঘটায়। ত্বকের শুষ্কতা থেকে বাঁচিয়ে ত্বককে আরও আর্দ্র করে তোলে।আলু  সানবার্ন দূর করতে খুবই উপকারী।

 

১১) গাজর এবং অ্যাভেকাডো মাস্কঃ   ১টি অ্যাভেকাডো পেস্টের সাথে ১টি গাজর পেস্ট করে মিশিয়ে নিন। সাথে ১টেবিল চামচ মধু এবং ১টি ডিম যোগ করুন।  এবার প্যাকটি আপনার মুখ,গলায় লাগিয়ে ১৫-২০মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। 

এই প্যাকটি খুব কার্যকর।সপ্তাহে ২বার ব্যবহার করতে পারেন। 

 

গাজর এবং অ্যাভোকাডো কেবল বাহ্যিক ভাবেই নয় রোজ খেলেও ত্বক ভেতর থেকে স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার হয়। গাজরের মধ্যে থাকা বিটা ক্যারোটিন এবং লাইকোপিন ত্বককে উপযুক্ত পুষ্টি প্রদান করে এবং এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে তোলে।  

 

১২) চালের গুঁড়োর প্যাকঃ  ২টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো, ১টেবিল চামচ শসার রস এবং ১টেবিল চামচ লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। 

এরপর প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ১৫মিনিট অপেক্ষা করুন।এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখটা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। 

 

মুখে ছোট ছোট দানা জাতীয় কোন সমস্যা দেখা দিলে কিংবা ব্রণর সমস্যায় ঘরোয়া রূপচর্চায় এটি যথেষ্ট কার্যকরী। 

 

১৩) ডাবের পানিঃ পরিমাণ মত ডাবের পানি নিয়ে ৩/৫ মিনিট মুখে  হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ১৫মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ডাবের পানি সপ্তাহে ৩বার ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ত্বকে অনেকগুলে সমস্যার সমাধান একসাথে দিবে। 

 

ত্বক ফর্সা করে তুলতে এবং ত্বক থেকে যেকোন কালো দাগ দূর করতে ডাবের জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। বসন্তের দাগ কিংবা পোড়া দাগ, ব্রণের দাগ বা যে কোন ধরনের ত্বকে দাগের সমস্যা কিংবা বার্ধক্যজনিত রিংকেলস ফাইন লাইনস এর সমস্যা দূরীকরণে ডাবের জলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

 

১৪)মুসুর ডালের প্যাকঃ ২টেবিল চামচ মুসুর ডাল পেস্ট, ১টেবিল চামচ মধু সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে তৈরী করে নিন প্যাক।এরপর মুখে লাগিয়ে ১৫মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। 

এটি আপনার ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করবে। ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যকর এবং প্রানবন্ত করে তুলবে। 

 

১৫) ত্বকের পরিচর্যায় গ্রীনটিঃ  ত্বককে কেবলমাত্র বাইরে থেকেই নয় ভেতর থেকেও সুন্দর করে তোলে গ্রিন টি। গ্রিন টির মধ্যে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানসমূহ ভেতর থেকে সমস্ত রকম টক্সিন বের করে ত্বককে পরিষ্কার রাখে এবং সূর্য রশ্মির খারাপ ক্ষতিকর প্রভাব থেকে এটি ত্বককে রক্ষা করে। 

 

২টি গ্রীণ টি ‘র সাথে ১টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ১টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন৷ এরপর মুখে লাগিয়ে ১৫মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন।  এটি সপ্তাহে প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারবেন। 

 

১৬) আমন্ড অয়েল এবং গুঁড়ো দুধের প্যাকঃ  ঘরোয়া রুপচর্চায় এই মাস্কটি খুব উপকারী।এটি আপনার ত্বককে আদ্র রেখে ত্বককে স্বাস্হ্যোজ্জ্বল করবে। 

১টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ,১টেবিল চামচ লেবুর রস,১টেবিল চামচ মধু সাথে ১টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে মিশ্রণ তৈরী করুন। এরপর মুখে লাগিয়ে ২০মিনিট অপেক্ষা করে কিছুটা শুকিয়ে এলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এই প্যাকটি প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে ভালো কাজ করে। তাই এটি ব্যবহার করার পর কোনো প্রকার সাবান ব্যবহার করবেন না মুখে এবং চেষ্টা করবেন এটি ব্যবহার করে কিছু সময় রোদে না যাওয়ার।

 

 

১৭) দুধ এবং গোলাপ জলের ব্যবহারঃ আপনার পরিমাণ মত কাঁচা দুধ নিয়ে সাথে সমপরিমাণ গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এরপর মুখে লাগিয়ে ১০মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

যদি ত্বক তৈলাক্ত হয় সেক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। 

 

এই মিশ্রণটি আপনার ত্বককে দীর্ঘক্ষণ হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে।এই মিশ্রণটি  টোনার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে,

 

১৮) ত্বকের চর্চায় ডিমঃ   যাদের ত্বক শুষ্ক তাদের জন্য এই প্যাকটি খুবই কার্যকরী।তাই চেষ্টা করুন সপ্তাহে ১/২বার ব্যবহার করার।  ১টি ডিমের কুসুমের সাথে পরিমাণ মত অলিভ অয়েল সাথে অল্প লেবুর রস দিয়ে বানিয়ে নিন প্যাক৷ এরপর মুখ এবং গলায় লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

১৯) Tea tree oil এর ব্যবহারঃ  রূপচর্চায় Tea tree oil বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় এবং কার্যকরী উপাদান।  ১টি ডিমের সাদা অংশের সাথে হাফ টেবিল চামচ লেবুর রস এবং ২ ফোঁটা Tea tree oil  ব্যবহার করে নিতে পারেন। সবগুলো উপকরণ একসাথে মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা 

করুন। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। আপনি চাইলে Tea tree oil এর সাথে লেবুর বা শসার রস মিলিয়ে ও ব্যবহার করতে পারেন।

 

Tea tree oil আপনার ত্বককে একনি, ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে।নিয়মিত এই প্যাকটি ব্যবহারে ভালো রেজাল্ট পাবেন।

 

 

২০) ত্বকের যত্নে ময়দা এবং কমলার ব্যবহারঃ এই প্যাকটি একটি প্রাকৃতিক Scrub এর মত ত্বকে কাজ করে।। এটি ব্যবহারের ফলে ত্বকের মৃতকোষ বের হয়ে আসবে এবং ভিতর থেকে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে। 

১টেবিল চামচ ময়দার সাথে ১টেবিল চামচ গুঁড়ো দুধ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর পরিমাণ মত কমলার রস দিয়ে পেস্ট তৈরী করুন। 

এরপর প্যাকটি মুখ ও গলায় লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। খানিকটা শুকিয়ে এলে  অল্প অল্প পানি দিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে করে উঠিয়ে নিন। এই প্যাকটি আপনার সানবার্ন দূর করতেও সহায়তা করে। 

 

২১) Dark circle দূরীকরণে ঘরোয়া উপায়ঃ পরিমাণ মত টমেটো রসের সাথে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে নিন এর পর কিছুক্ষণ ফ্রিজে রাখুন৷ ১০ মিনিট পর বের করে একটি কটন প্যাড মিশ্রণে ভিজিয়ে চোখের উপর রেখে ১০মিনিট রেখে অপেক্ষা করুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

এটি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে চোখের নিচের কালো দাগ থেকে খানিকটা মুক্তি পেতে পারেন। 

পুরোপুরি মুক্তি পেতে হলে রূপচর্চার সাথে আপনার খাদ্যোভাসে এবং ঘুমে ও পরিবর্তন আনতে হবে। 

 

২২) ত্বকের যত্নে আমন্ড এবং অর্গান অয়েলঃ  ত্বকের যত্নে অর্গান  অয়েলের জুড়ি নেই।

অর্গান অয়েল আপনার ত্বকে সিরামের কাজ করে। আপনার ত্বক যদি খুব বেশী শুষ্ক হয় সেক্ষেত্রে নিয়মিত অর্গান অয়েল ব্যবহারের ফলে ত্বকের আদ্রতা ফিরে পাবেন। 

এছাড়াও ঘুমানো আগে পরিমাণমত অর্গান ও আমন্ড অয়েল নিয়ে চোখের চারপাশে ম্যাসাজ করে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত ব্যবহারে চোখের নিচের কালো দাগ ও ফোলা ভাব দূর হবে।ত্বকের বলিরেখা দূর করতে ও অয়েল গুলো খুব ভাল কাজ করে থাকে।

 

২৩)Dark circle দূরীকরণে পুদিনাপাতাঃ  পরিমাণমতো পুদিনাপাতা নিয়ে অল্প পানি দিয়ে পেস্ট করুন। পেস্টটি চোখের চারপাশে লাগিয়ে নিয়ে ১০মিনিট অপেক্ষা করুন। 

১০মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

এটি আপনার চোখের কালো দাগ দূর করতে খুব তাড়াতাড়ি কাজ করে।

 

২৪) শুষ্ক ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরাঃ  পরিমাণ মত অ্যালোভেরা জেল নিয়ে এতে গ্রীনটি মিশিয়ে নিন ভালোভাবে।  এরপর ত্বকে লাগিয়ে ২০মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

এই প্যাক টি আপনার ত্বক থেকে খুব তাড়াতাড়ি রুক্ষতা দূর করবে  প্রাণবন্ত করে তুলবে।

 

২৫)ত্বকের পরিচর্যায় কলাঃ  ১টি কলা ভালোভাবে ম্যাশ করে নিয়ে এতে ২ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিয়ে পেস্ট তৈরী করুন৷ পেস্ট টি মুখে লাগিয়ে ২০মিনিট অপেক্ষা করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

শুষ্ক ত্বকের জন্য কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এই প্যাকটি নিয়মিত ব্যবহারে খুব তাড়াতাড়ি রুক্ষতাকে বিদায় দিতে পারবে আপনার ত্বক। 

 

 

★★সতর্কতাঃ 

 

১) কখনোই উপরের ৫/৬ টা প্যাক একসাথে ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকের উপকারের চেয়ে অপকারের সম্ভাবনা বেশী থাকে। 

 

২) প্যাক ব্যবহার করার আগে অবশ্যই উপকরণ গুলো দেখে নিবেন৷ যদি কোনো উপকরণে আপনার এলার্জির সমস্যা থাকে সেক্ষেত্রে অন্য প্যাক ব্যবহার করুন।

 

৩) প্রতিটি প্যাক তৈরী করে অল্প একটু হাতে কিংবা গলার একপাশে লাগিয়ে দেখবেন আগে। যদি কোনো প্রকার এলার্জি  প্রবলেম না হয় সেক্ষেত্রে তারপর মুখে ব্যবহার করুন।

 

৪) ব্লিচ এর ক্ষেত্রে সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন। এবং ব্লিচ করে রোদে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

 

৫) প্রতিটি ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে দেওয়া হয়েছে তাই চেষ্টা করুন, যে ২/৩ টি ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন না কেন, সময় নিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করার। 

 

৬)ফেসপ্যাক ওয়াশের পর অবশ্যই আপনার ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার  ব্যবহার করুন। 

 

★★ফেসওয়াস, টোনার, ময়েশ্চারাইজার

 

ত্বককে সুন্দর এবং স্বাস্হ্যোজ্জ্বল রাখতে প্রতিদিন সকাল ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে  ঘুমানোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিস্কার করে নেওয়া আবশ্যক। 

সাথে অবশ্যই টোনার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে নিতে হবে। 

এতে আপনার ত্বক থাকবে প্রাণবন্ত এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে চিন্তা মুক্ত।

 

★★ সানস্ক্রিন 

 

বাহিরে ধুলো বালি আর সূর্যের কড়া রোদের কারণে আমাদের সানবার্ন, ট্যান এসব প্রবলেম দেখা দেয়। এছাড়া নিয়মিত বাহিরে যাওয়ার কারণে সূর্য রশ্মি আমাদের মেলানিনকে পার্মানেন্ট ভাবে Dark করে দেয়এবং ত্বকে বয়সের ছাপ ফেলে দেয়।

তাই বাহিরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। 

 

ত্বকের স্বাস্থ্যউজ্জ্বলতা বজায় রাখতে দরকার নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যা, বাজারের কেমিক্যাল ভর্তি সুন্দর হওয়ার পণ্য নয়।

 

লেখকঃ তাঞ্জিলা কামাল ( প্রোডাক্ট এক্সপার্ট কারনেসিয়া )

তথ্য ও ছবিঃ গুগোল

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *